হালিশহরে বিস্ফোরণে দগ্ধ তিন শিশু জানে না যে তাদের পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই। আগুনে পোড়া শরীর নিয়ে হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছে ১০ বছরের শিশু উম্মে আইমান। বাসায় এক বিস্ফোরণের পর হঠাৎ লাগা আগুনে দগ্ধ হয় সে। একই সময়ে দগ্ধ হয় তার মা-বাবা ও কিশোর ভাই। তাদের সবার মৃত্যু হয়েছে। মা-বাবা ও বড় ভাই যে বেঁচে নেই সে খবর জানে না আইমান। কিছুক্ষন পরপর মা-বাবাকে দেখার আকুতি জানাচ্ছে সে।
উম্মে আইমান চিকিৎসাধীন ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। দগ্ধ হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে আইমানের দুই চাচাতো ভাই–বোন আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ (৬)। তাদের মা-বাবারও মৃত্যু হয়েছে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তাদেরও জানানো হয়নি মা-বাবা, চাচাসহ পরিবারের আর কেউ বেঁচে না থাকার বিষয়টি।
সোমবার ভোর সাড়ে চারটায় চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় ওই বাসায় থাকা ৯ জন দগ্ধ হন। এর মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে তিনটি শিশু।
ফায়ার সার্ভিসের ধারণা করছে যে বাসাটির গ্যাসের লাইনে কোনো লিকেজ ছিল। সেখান থেকে নির্গত হওয়া গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের দাবি, গ্যাস লিকেজ হয়নি।
দুর্ঘটনার সময় তৃতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটটিতে ছিল তিন ভাইয়ের পরিবার। এই তিন ভাই হলেন শাখাওয়াত হোসেন (৪৯), সামির আহমেদ (৪০) ও শিপন হোসেন (৩০)। এর মধ্যে শিপন বিয়ে করেননি। শাখাওয়াতের স্ত্রী ও দুই সন্তান এবং সামিরেরও স্ত্রী ও দুই সন্তান বাসাটিতে ছিল। বিস্ফোরণের পর সবাই দগ্ধ হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাখাওয়াত ও তাঁর অন্য দুই ভাই মারা গেছেন। একইভাবে মৃত্যু হয়েছে শাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৪০) ও সামিরের স্ত্রী পাখি আক্তারের (৩৫)। শাখাওয়াতের সন্তানদের মধ্যে আইমান এবং সামিরের দুই সন্তান আয়েশা ও ফারহান কেবল বেঁচে রয়েছে।
স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী সামির হালিশহরের বাসাটিতে থাকতেন না। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে চিকিৎসার কারণে চট্টগ্রাম নগরে আসেন। এ সময় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভাইয়ের বাসাটিতে ওঠেন তিনি।
দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় শিপন হোসেনের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘শিপন হোসেনের শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।’
চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আইমানের শরীরের ৩৮ শতাংশ, ফারহানের ৩০ শতাংশ এবং আয়েশার ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
হাসপাতালে শিশুদের খোঁজখবর রাখছেন শাখাওয়াত হোসেনের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী। তিনি বলেন, ‘তিন শিশুর অবস্থাও ভালো না। তারা শুধু মা–বাবাকে খোঁজে। তারা তো জানে না পরিবারের বাকিদের কী অবস্থা। বাকি সবাই মারা যাওয়ার বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি।’
ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো। ঘটনার তদন্তে তিনটি কমিটি কাজ করেছে। ফায়ার সার্ভিস, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও জেলা প্রশাসন এসব তদন্ত কমিটি গঠন করে।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘তদন্ত কমিটির কাজ চলছে। প্রতিবেদন পেলে কী কারণে দুর্ঘটনা হয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
এমআর/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!