গাজীপুর পিবিআই, কিশোর হত্যা, হাত্যা, গ্রেপ্তার, সারাদেশ, জাতীয়, পুলিশ,
কিশোর মাহবুব ও তার হত্যার অভিযোগে আটককৃত যুবক।   ছবি: সংগৃহীত

গাঁজা সেবনের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে হত্যা করে মরদেহে আগুন দিয়ে পোড়ানোর ক্লুলেস মামলার রহস্য ৫ দিনের মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় প্রধান আসামি ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ সংবাদমাধ্যম আরটিএনএনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিকটিম মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩) গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় একটি মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

গত ২৭/০২/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সে ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন একই গ্রামের মো. মোশারফ হোসেনের বাগানে আগুনে পোড়া অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়, যা ভিকটিমের পরিবার সনাক্ত করে।

এই ঘটনায় ভিকটিমের দাদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা নং–০১, তারিখ–০১/০৩/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা–৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই গাজীপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিঃ) বিশ্বজিত বিশ্বাস, বিপিএম (সেবা) মামলাটি তদন্ত করছেন।

পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, ক্রাইম সিনের পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ, স্থানীয় সোর্স এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গত ০৫/০৩/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে (৫ দিনের মধ্যে) ভবানীপুর এলাকা থেকে ভিকটিমের প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)-কে গ্রেফতার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আসামি জঙ্গলের ভেতরে গাঁজা সেবন করছিল। এ সময় ভিকটিম মাহাবুব ইসলাম রনি বিষয়টি দেখে অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আসামি তাকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মরদেহে আগুন লাগিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।