ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২।
ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২।   ছবি: আরটিএনএন

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের নিমতলা মাঠে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে স্থানীয় জনতার হাতে দুই ডাকাত আটক হয়েছে।

বুধবার রাতে দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের আটক করার পর গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটককৃতরা হলো— পদ্মবিলা ইউনিয়নের নিমতলা গ্রামের মাদার আলীর ছেলে মাহাবুল (৩০) এবং একই গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে রশিদুল ইসলাম (৩৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়ালাইকান্দি গ্রামের মৃত গোলাম এহিয়া সরদারের ছেলে আশরাফুল ইসলাম বুধবার রাত ৮টার দিকে মাঝহাট গ্রাম থেকে তার অসুস্থ ফুফুকে দেখে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত ৯টার দিকে তিনি নিমতলা মাঠের নির্জন স্থানে পৌঁছালে ৪-৫ জনের একটি ডাকাত দল তার গতিরোধ করে। ডাকাতরা হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে তার গলায় ধরলে তিনি কৌশলে মোটরসাইকেল চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে গ্রামে চলে আসেন।

গ্রামে পৌঁছে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হিমু জোয়াদ্দারসহ স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিমতলা মাঠে অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মাহাবুল ও রশিদুলকে আটক করে জনতা। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দিয়ে সরোজগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

আশরাফুল ইসলাম জানান, “ডাকাতরা আমার মোটরসাইকেল থামিয়ে গলায় হাসুয়া ধরে পরিচয় জানতে চায়। তাদের মধ্যে একজন মোটরসাইকেল ও সঙ্গে থাকা সবকিছু ছিনিয়ে নিতে বলছিল। আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে আসি এবং গ্রামবাসীকে খবর দিই।”

ঘটনা সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “আটককৃতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।