চাটমোহর, ছিনতাই, হত্যা, পুলিশ, লাশ, খুন, সারাদেশ,
বৃহস্পতিবার চাটমোহর থানা পুলিশ নিহত ইমরানের লাশ উদ্ধার করে।   ছবি: আরটিএনএন

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় ভ্যান ছিনতাই করতে গিয়ে ইমরান হোসেন (১৭) নামে এক কিশোর ভ্যানচালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাইসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোরে নিহত ইমরানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত চাচাতো ভাইসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত ইমরান উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে।

নিহত ইমরান হোসেনের নিকট আত্মীয় সাদ্দাম হোসেন জানান, বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় শুকুরভাঙ্গা এলাকা থেকে ইমরান হোসেনের অটোভ্যানটি ভাড়া নেয় তার আপন চাচাতো ভাই সুমন হোসেন। এ সময় হেলালসহ আরও দুজন অটোভ্যানটির যাত্রী ছিল।

অটোভ্যান নিয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করে তারা। পরে আনুমানিক রাত ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকায় ভ্যান ও মোবাইল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রথমে ইমরানকে মারধর করা হয়। পরে চাচাতো ভাইসহ তার সহযোগীরা ইমরানকে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

পরিবারের লোকজন ইমরানকে খুঁজে না পেয়ে এলাকার বাজারে এসে জানতে পারে তিন ব্যক্তিকে নিয়ে ভাড়ায় গেছে ইমরান। পরিবার ও এলাকাবাসী ওই তিন ব্যক্তিকে খুঁজতে খুঁজতে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় তাদের কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হলে এবং কিছু তথ্যপ্রমাণ মিললে ওই তিনজনকে আটক করে চাটমোহরে নিয়ে আসে এলাকাবাসী।

পরে স্বজন ও এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, ইমরানকে হত্যা করে শ্মশান এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। পরে বুধবার রাতেই পরিবারের লোকজন চাটমোহর থানা পুলিশকে খবর দেয়।

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটনাস্থল থেকে নিহত ইমরানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। একই সময় অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সকাল ১১টা) পুলিশ ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছিল।