পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় বইছে উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে শহরের কাঁচা বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের পদচারণায় এখন মুখর পুরো শহর।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে কেনাকাটা। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে সাধারণ মানুষ তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্রেতাদের এই বাড়তি চাপের কারণে বিক্রেতাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। প্রতিটি ছোট-বড় দোকানেই ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঈদুল ফিতরের রান্নার প্রধান অনুষঙ্গ হলো সেমাই ও চিনি। বড় বাজারের পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, এবার বাজারে সাধারণ সেমাইয়ের পাশাপাশি ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা ও স্পেশাল লাচ্ছার চাহিদা তুঙ্গে। মানভেদে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাইয়ের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। সেমাই ও চিনির চাহিদাও বেড়েছে। লুজ সেমাই ৬০ টাকা এবং প্যাকেট সেমাই ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লুজ চিনি ৮০ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ১০৮ টাকা কেজি।
বাজারে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা, সুপার তেল ১৭৮ টাকা এবং পাম তেল ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ডালের মধ্যে মুগ ডাল ১১০ থেকে ১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মুসুরির ডাল ৯০ টাকা এবং দেশি মুসুরির ডাল ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কলাই ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি।

ডিমের বাজারে প্রতি খাচি মুরগির ডিম ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা এবং হাঁসের ডিম প্রতি খাচি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মসলার বাজারে বাদাম ২০০ টাকা, কিসমিস ৯০০ টাকা, এলাচ ৪৬০০ থেকে ৫৬০০ টাকা, হলুদ গুঁড়া ৩০০ টাকা এবং মরিচ গুঁড়া ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চালের বাজারে স্বর্ণচাল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, আটাশ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মিনিকেট চাল ৭৪ থেকে ৭৫ টাকা, বাসমতি চাল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা এবং পোলাও চাল ৮৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া ঈদকে ঘিরে
মাংসের বাজারে খাসির মাংস প্রতি কেজি ১১০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ২২০ টাকা, টেংরা ৮০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ১৬৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজির বাজারে আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, রসুন ৮০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, শসা ৩০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, সিম ৪০ টাকা এবং লাউ ৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আড়তের পাইকারি বাজারে প্রতি ৫ কেজি আলু ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, পেঁয়াজ ১৭০ টাকা, রসুন ২৫০ টাকা, আদা ৬৫০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফলের বাজারে আপেল ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, কমলা ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাল্টা ৫৩০ টাকা, আঙুর ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাকা পেঁপে ৮০ টাকা কেজি এবং ডালিম ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তরমুজ ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে। মেসার্স সানোয়ার স্টোরের প্রোপাইটার সানোয়ার হোসেন বলেন, আগের তুলনায় পণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদের কারণে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে এবং বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে পারেন।
বাজারে করতে আসা ক্রেতারা জানান কিছু পণ্যের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তারা বলেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি থাকলে এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নজরদারি বাড়ালে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে। স্থানীয়দের মতে, বাজারে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হলে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই বাজার ব্যবস্থা আরও স্বস্তিদায়ক হবে এবং অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!