ঢাকা-মাওয়া
পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি।   ছবি: সংগৃহীত

ঈদের আনুষ্ঠানিক ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। এতে মুন্সীগঞ্জের ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে বেড়েছে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মানুষকে গ্রামের পথে যেতে দেখা গেছে। তবে স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগও বাড়ছে এবারের ঈদযাত্রা ঘিরে।

সম্প্রতি এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং বেপরোয়া গতির কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন যাত্রীরা।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত মাত্র ৩৫ কিলোমিটার সড়কে গত তিন মাসে অন্তত পাঁচটি বড় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায় প্রতিদিন।

সরকারি তথ্য বলছে, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে দুই শতাধিক মানুষের। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী, চালক ও পথচারী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজার কাছে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গণপরিবহনের সংকটে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন।

এই সুযোগে কিছু পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। পুলিশ জানায়, এক্সপ্রেসওয়ে ও মাওয়া প্রান্তজুড়ে প্রায় ১৮১টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে এবং যেকোনো অভিযোগের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় যানজট এড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি আলাদা বুথ রাখা হবে এবং ১৪ জন অতিরিক্ত টোল আদায়কারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

যানজটের আশঙ্কা কতটা?

হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা না থাকলেও যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে সব লেন খুলে দেওয়া হবে।

এক্সপ্রেসওয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দিন-রাত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে ছিনতাই বা চুরির ঘটনা না ঘটে।

অন্যদিকে, গজারিয়ার অংশ দিয়ে পূর্বাঞ্চলের ১৫ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। প্রতি বছর এখানেও যানজটের সমস্যা দেখা দেয়।

এবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাসড়ক পুলিশ, জেলা পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকসহ বিপুল সংখ্যক জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, উল্টো পথে যান চলাচল ও ইউটার্নের কারণে যানজট বেশি হয়। তাই এসব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ঈদযাত্রা শুরু হলেও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশের মহাসড়কে স্বস্তির পাশাপাশি রয়েছে শঙ্কা।

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রশাসনের প্রস্তুতি থাকলেও যাত্রীদের সচেতনতা এবং নিয়ম মেনে চলাই নির্বিঘ্ন যাত্রার প্রধান শর্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।