জামালপুর, ব্রহ্মপুত্র নদ
ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ড্রাম দিয়ে বানানো ভাসমান সেতু উল্টে পানিতে শতাধিক মানুষ পড়ে যায়।   ছবি: আরটিএনএন

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদে স্থাপিত একটি ভাসমান সেতু ভেঙে পড়ে ডুবে গিয়ে ভাই-বোনসহ পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঈদের দিন বিকেলে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে নদীর ওপর নির্মিত ভাসমান সেতুটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো— ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার ১০ বছর বয়সী সন্তান মায়ামনি, ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ৬ বছর বয়সী ছেলে আব্দুল মোতালেব ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা, বেলতলি এলাকার হাবিবুল্লাহর ১৪ বছর বয়সী ছেলে আবির হোসেন এবং বালু গ্রামের জয়নালের ছেলে হাফেজ মিহাদ (১৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে ভাসমান সেতুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় জমে। অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে সেতুটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে এবং অনেকেই নদীতে পড়ে যান। বেশিরভাগ মানুষ সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও কয়েকজন শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নদের পাড়ের চা দোকানি মকবুল মিয়া জানান, সেতুটি প্রায় এক বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। অতিরিক্ত মানুষ ওঠার কারণেই এটি ভেঙে পড়ে।

মৃত হাফেজ মিহাদের চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাতিজা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসে এভাবে মারা যাবে ভাবিনি। সেতুটি ভালো থাকলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না।”

দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ রবিউল ইসলাম আকন্দ জানান, নিখোঁজ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে আর কেউ নিখোঁজ নেই।