রাজবাড়ীর পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ বন্ধ, ভোগান্তিতে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ, রাজবাড়ি, তেল পাম্প, তেল নেই, তেল সংকট, পাম্পে তেল নেই, কোন পাম্পে তেল আছে,
রাজবাড়ি পাম্পে তেল না থাকায় গাড়ি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন একজন ব্যাক্তি।   ছবি: আরটিএনএন

রাজবাড়ীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরা মানুষ। বিশেষ করে ছুটি শেষে বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকেরা।

জেলা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাম্পগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, পাম্প খোলা থাকলেও তেল না থাকায় অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ। সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পেরে অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। যাদের দূরপাল্লার যাত্রা রয়েছে, তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এদিকে পাম্প মালিকদের দাবি, সরবরাহ না থাকায় তারা তেল দিতে পারছেন না। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া থেকে আসা ঢাকাগামী লুৎফর রহমান বলেন, “ঈদের ছুটি শেষে বাইকে ঢাকা ফিরছি। রাজবাড়ী পর্যন্ত যতগুলো তেল পাম্প পেয়েছি, একটিতেও তেল নেই। আমার বাইকের তেল শেষ—এখন কীভাবে যাব?”

তার দাবি, পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণেই এই ভোগান্তি; তা না হলে একসঙ্গে সব পাম্পে তেল বন্ধ থাকার কথা নয়। এ বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

আব্দুর রব নামের আরেক মোটরসাইকেলচালক বলেন, “সকালে পাংশায় গিয়েছিলাম তেলের জন্য, সেখানে পাইনি। পরে কালুখালী ও রাজবাড়ীর সব পাম্পে ঘুরেও একই অবস্থা দেখলাম। আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। সরকার বলছে তেলের সংকট নেই, কিন্তু পাম্পে আসলে তেল নেই—কেউ কোনো জবাবদিহি করছে না।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “একসঙ্গে সব পাম্পে তেল শেষ হওয়ার কথা না। এটা পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটের ফল। সরকারের কাছে অনুরোধ, এদিকে নজরদারি বাড়ানো হোক।”

মো. হাশেম আলী বলেন, “মঙ্গলবার সকাল থেকে অফিস। রাজবাড়ীর একটি পাম্পেও তেল পাচ্ছি না। আমাকে কিশোরগঞ্জ যেতে হবে। বাইকে কমপক্ষে চার লিটার তেল প্রয়োজন। তিনটি পাম্পে ঘুরলাম—সব জায়গায় একই অবস্থা। খুব কষ্ট লাগছে।”

সংকটের কারণ জানতে চাইলে ‘কাজী ফিলিং স্টেশন’-এর ক্যাশিয়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ডিপো থেকে সরবরাহ না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আর যেটুকু তেল আসছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।”

পাংশা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল মমিন বলেন, “সংকটের মূল কারণ ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়া। আমাদের প্রতিদিন চাহিদা ১০ হাজার লিটার, সেখানে সপ্তাহে পাচ্ছি মাত্র ৬ হাজার লিটার।”

উল্লেখ্য, রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১০টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর কোনোটিতেই পেট্রোল ও অকটেন নেই। তবে পাংশা ফিলিং স্টেশনে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ ছিল।