ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অন্তত ৩০, বিএনপি, সরকার, বিএনপির
আগুনে পুড়ছে মোটরসাইকেল ও ভাঙচুরের দৃশ্য।   ছবি: আরটিএনএন

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি, অফিস ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট ও পোস্ট অফিস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নেতাকর্মীদের মারধর, অফিস ভাঙচুর ও লুটপাটসহ নানা অভিযোগ এনে দুই পক্ষই সকালে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে। পরে উভয় গ্রুপ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের কার্যালয় এবং তার সমর্থকদের অন্তত ৩০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ সময় উভয় পক্ষের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, জাকারিয়া পিন্টুর ভাই মেহেদীসহ তাদের লোকজন মাদক ব্যবসা, জমি দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাকারিয়া পিন্টু ধানের শীষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি নিয়েও বিরোধ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তারা ধানের শীষের সমর্থক নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এর প্রতিবাদে তাদের কর্মসূচি চলাকালে প্রতিপক্ষ গুলি ও হামলা চালায়।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তার ভাই, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।