তেলের তীব্র সংকট, পাম্পে লাইন আর খোলা বাজারে চড়া দাম, তেল, তেল সংকট, তেল নেই, জ্বালানি সংকট, জ্বালানিমন্ত্রী, যুদ্ধ, পাম্প, পাম্পে লাইন, লম্বা লাইন, অকটেন, ডিজেল, পেট্রোল, সাতক্ষীরা, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সারাদেশ, যুদ্ধ, আমেরিকা, ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ,
সাতক্ষীরায় পেট্রোল পাম্পে তেলের লাইনের দৃশ্য।   ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও বেশিরভাগ পাম্পে সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরের পর থেকে বুধহাটা, ধুলিহর, এবি খান ও আলিপুরসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে খুলনা থেকে তেল আসার অপেক্ষায় শত শত মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও সীমিত পরিমাণে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে তেল বিক্রি হলেও অধিকাংশ পাম্পে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন পাম্পে ভিড় চরমে পৌঁছে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না।

এ সুযোগে খোলা বাজারে বাড়তি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফিলিং স্টেশনে সংকট থাকলেও খুচরা দোকানে সহজেই পেট্রোল ও অকটেন মিলছে। সেখানে পেট্রোল প্রতি লিটার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ সিন্ডিকেটের কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন অভিযান শুরু করেছে। সদর ও কলারোয়া উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুটি টিম বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তদারকি চালায়। এ সময় মজুদ ও সরবরাহ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হয় এবং ভাউচার দেখাতে না পারায় দুটি মামলায় মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া পাম্প মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি না করা হয়।

সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।

আরবিএ/আরটিএনএন