জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বসে আছেন।   ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ বৃত্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০তম ব্যাচের (২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমীন টানা প্রায় ২২ ঘণ্টা ধরে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন। তিনি বলেন, ‘২০তম ব্যাচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গৌরবান্বিত ব্যাচ। প্রথম বর্ষে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রথম কিস্তিতে অন্তর্ভুক্ত করলে ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ চলমান পাঁচটি ব্যাচের নীতির আওতায় তারা বৃত্তি পাবে না। অথচ যমুনার আন্দোলনে তাদের অগ্রগণ্য ভূমিকা ছিল।’

কোষাধ্যক্ষ বলেন, ‘এটি আমার একার সিদ্ধান্তে নেওয়ার বিষয় নয়। এক মিনিটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বিষয়ও এটি নয়। আমরা কমিটির সবার সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করব।’

এর আগে সকালে আবাসন ভাতার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলাভবন, শহীদ সাজিদ ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে তারা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নেন।

কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— ‘২০ ব্যাচের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত, মানি না মানব না’, ‘বৈষম্যের সিদ্ধান্ত, মানি না মানব না’, ‘১, ২, ৩, ৪—বৃত্তি মোদের অধিকার’, ‘বৃত্তি আমার অধিকার, না দেওয়ার সাধ্য কার?’ এবং ‘জকসু ও প্রশাসন, দুই দেহ এক মন’।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ২০তম ব্যাচের একটি প্রতিনিধি দল কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বলে জানা গেছে।

ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাংগুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি বলেন, ‘আমাদের একটি প্রতিনিধি দল কোষাধ্যক্ষ ম্যাডামের সঙ্গে আলোচনা করছে। লিখিত আশ্বাস ছাড়া আমরা এখান থেকে যাব না।’