বাকৃবির কৃষিকন্যা হলে পিঠা উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত 
বাকৃবির কৃষিকন্যা হলে পিঠা উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত    ছবি: আরটিএনএন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষিকন্যা হলে অন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী এবং পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় হলের রিডিংরুমে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার মিলন ঘটেছে।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী এবং হলের হাউজ টিউটরসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

পুরস্কার বিতরণী অংশে অন্তঃহল প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। প্রতিটি খেলার দুইজন করে মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়েছেন। অন্তঃহল প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে ক্যারাম, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, লুডু এবং দাবা। শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ক্রীড়া দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পিঠা উৎসব বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়। উৎসবে ভাপা, চিতই, তেল পিঠা, পুলি পিঠাসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পিঠা উপস্থাপন করা হয়। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে উৎসবটিকে প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত করেন। এই উৎসবে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিজয়ী শিক্ষার্থী ব্যাডমিন্টনের তাহমিনা ইমা বলেন, ব্যস্ত একাডেমিক রুটিন এবং হলের নানা প্রতিকূলতার মাঝেও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জয়ী হওয়া সত্যিই এক দারুণ অনুভূতি। এই পুরস্কার ভবিষ্যতে আমাকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেবে।

প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, হলে আবাসন সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের আসন ব্যবস্থা মেধা ও সিনিয়রিটি ভিত্তিক নিশ্চিত করা হয়েছে। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। যারা পুরস্কার পেয়েছে তাদের অভিনন্দন, এবং যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদেরও ধন্যবাদ।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য লেখাপড়া করা। নিয়মিত পড়াশোনা করা উচিত। প্রতিযোগিতা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে, তাই শিক্ষার্থীদের সচেতনভাবে কঠিন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে হবে।

সার্বিকভাবে এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যচর্চার সমন্বয় ঘটিয়েছে। কৃষিকন্যা হলের শিক্ষার্থীরা এ ধরনের আয়োজনকে মানসিক ও সামাজিক বিকাশের সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছে।