ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শহীদ নজির আহমদের ৮২তম শাহাদাত বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ'র কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তা এ শ্রদ্ধা জানান।
১৯৪৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের হাতে শহিদ হন নজির আহমদ। তিনি ১৯১৮ সালে ফেনী জেলার আলিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৭ সালে ম্যাট্রিক পাস করার পর ১৯৩৯ সালে ফেনী কলেজ থেকে আই এ পাস করেন। আই এ পাসের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে সম্মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৪৩সালে এমএ অধ্যয়নকালে তিনি শহাদাত বরণ করেন।
১৯৪৩ সালের জানুয়ারির শেষদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ও হিন্দু ছাত্রীদের একটি যৌথ অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’গাওয়া এবং পূজার্চনা বিধির বিরুদ্ধে মুসলিম শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানায়। এর প্রেক্ষিতে ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরাতন ভবন) ক্লাস চলাকালীন মুসলমান ছাত্রদের ওপর সাম্প্রদায়িক হিন্দু ছাত্ররা হামলা চালায়।
ওই সময় ছাত্র নেতা শহিদ নজিরকে বেধড়ক পেটানোর পাশাপাশি উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। সতীর্থরা তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করলেও ক্ষতবিক্ষত শরীর থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় মাগরিবের সময় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তৎকালীন বাংলা বিভাগের শিক্ষক পল্লীকবি জসীম উদ্দীন তার শিয়রে উপস্থিত ছিলেন।
নজীর আহমেদের স্মরণে কবি জসীম উদ্দীন একটি কবিতাও রচনা করেছিলেন-
“নজীরের বাপ ফিরিয়া যাইবে আবার আপন ঘরে নজীরের সেই শূন্য বিছানা বাক্স সঙ্গে ক'রে। অর্দ্ধেক পড়া বইগুলি তার লেখা ও অলেখা খাতা,পাতায় পাতায় স্মৃতি তার কত আখরের মত পাতা।”
এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ'র কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তা বলেন, শহিদ নজির আহমদ ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা এবং দেশের তরে এক লড়াকু সৈনিক। শহিদ নজির আহমদের রক্তের দাবি ছিল একটি গণমূখী, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। সেই দাবি আজও অপূর্ণ। শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সাম্প্রদায়িকতা, ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
এই শাহাদাত বার্ষিকীতে ছাত্রপক্ষ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে- ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করাই আমাদের প্রধান কাজ। শহীদ নজির আহমদের আদর্শ ধারণ করেই আমরা একটি শোষণমুক্ত ও ন্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!