ছুরিকাঘাতে নিহত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার জানাজা শেষে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাদ জোহর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
জানাজায় নিহত শিক্ষিকার বাবা, স্বামী, আত্মীয় স্বজনরা এছাড়াও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান,, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় মুফতি আমীর হামজা বলেন, “আমরা সরকারের কাছে এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই। দেশে আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখতে চাই না। দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে।”
এসময় আসমা সাদিয়ার বাবা বলেন, সকলেই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন তাকে যে আল্লাহ তা'আলা জান্নাত বাসী করেন। সেই সাথে যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সবার যেন বিচার নিশ্চিত হয়। আর যেন কারো সাথে এরকম ঘটনা না ঘটে আল্লাহ্ 'র কাছে দোয়া করি।
শিক্ষক সাদিয়ার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ইফতারের অনুষ্ঠানের দিনে কেউ একটা মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে তা আমার জানা ছিলোনা, নিজের জীবন দিয়ে তা দেখতে হলো। ১৩ সেপ্টেম্বর আমার চতুর্থসন্তান জন্ম নেয়ার পর আমি তাকে নিয়ে সনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।
১৯ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। একটা দিনের জন্যও তিনি তার দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত হননি। আমি প্রশাসনের কাছে, উপস্থিত সকলের কাছে আবেদন করছি তার কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের পিছনে হত্যাকারী একা জড়িত নয়, সবাইকেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব নসরুল্লাহ বলেন, রুনা অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। গতকাল আমি ঘটনাস্থলে যেয়ে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি। এরকম কোনো মর্মান্তিক ঘটনা আমার জীবনে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, সকল শিক্ষক - ছাত্র সমাজ আজ শোকাভিভূত।
আমরা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাছে হত্যাকারীর উপযুক্ত শাস্তি দাবি করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে রুনার পরিবারের যত প্রাপ্য আছে, সকল কিছু আমরা নিশ্চিত করবো। রুনার পরিবারে চারটি সন্তান আছে, এ পরিবারের পাশে থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবে ইনশাআল্লাহ।
এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ কক্ষে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করেন একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে তিনি আত্মহননেরও চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে জানাজার জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!