সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা কুখ্যাত অর্থলগ্নিকার ও যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টেইনের নথিভুক্ত ইমেইলগুলো নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের একটি ইমেইল সামনে আসার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে, যেখানে একাধিক বিশ্বখ্যাত তারকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই তালিকা ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এতে নাম থাকা তারকাদের সঙ্গে এপস্টেইনের কোনো ব্যক্তিগত, আর্থিক কিংবা অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেটের (JNS) পক্ষ থেকে জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে পাঠানো একটি ইমেইলের সঙ্গে একটি তালিকা সংযুক্ত ছিল। ওই তালিকায় এমন সব আন্তর্জাতিক তারকার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যারা সে সময় ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করেছিলেন বা প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নিয়েছিলেন। ইমেইলের সঙ্গে থাকা প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট তারকাদের রাজনৈতিক মন্তব্য, সামাজিক অবস্থান এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্র্যান্ড ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ও বিশ্লেষণ করা হয়।
তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ গায়ক জেইন মালিক। ওয়ান ডিরেকশনের সদস্য থাকাকালীন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনের পক্ষে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন। ২০১৪ সালে তার এই অবস্থান অনলাইনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং তাকে সাইবার আক্রমণেরও মুখে পড়তে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময় তার নাম এমন একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রমাণ করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুটি তখনই কতটা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ছিল।
এ ছাড়া তালিকায় ছিলেন অস্কারজয়ী ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা থম্পসন। তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের বয়কটের আহ্বান জানানোর কারণে আলোচনায় আসেন। একইভাবে স্প্যানিশ অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজ ও তার স্বামী, অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে প্রকাশিত একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করার জন্য তালিকাভুক্ত হন। ওই চিঠিটি সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।
সংগীতজগত থেকেও একাধিক প্রভাবশালী নাম উঠে এসেছে এই ইমেইলে। কিংবদন্তি শিল্পী স্টিভি ওয়ান্ডার একটি ইসরায়েল-সমর্থিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বাতিল করায় আলোচনায় আসেন। অন্যদিকে পিংক ফ্লয়েডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের প্রকাশ্য সমর্থক হিসেবে পরিচিত, যা তাকে এই তালিকায় স্থান দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ইমেইলটি মূলত জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেটের একটি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণের অংশ, যেখানে তৎকালীন সেলিব্রিটি অ্যাক্টিভিজম এবং মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। এতে কারও নাম থাকলেও সেটিকে এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে এপস্টেইনের বিভিন্ন যোগাযোগ, নথি ও ইমেইল প্রকাশ পাওয়ায় তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরোনো বার্তাগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই ২০১৪ সালের ইমেইলটিও আবার সামনে এসেছে এবং নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমের একটি বড় অংশই একমত যে, এই তালিকাটি মূলত রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সেলিব্রিটি অবস্থানের নথি এর বাইরে এর কোনো অপরাধমূলক তাৎপর্য নেই।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!