অভিনেতা শামস সুমনের মৃত্যু: শোকের ছায়া নাটক পাড়াতে।
অভিনেতা শামস সুমনের মৃত্যু: শোকের ছায়া নাটক পাড়াতে।   ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার হঠাৎ মৃত্যু হয়েছে অভিনেতা শামস সুমনের। তার মৃত্যুতে অভিনয় অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও ভক্তরা শোকে স্তব্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহশিল্পীরা আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে স্মৃতিচারণা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় এক সপ্তাহ আগে শামস সুমনের সঙ্গে ইফতার করার একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “সপ্তাহ খানিক আগে একসঙ্গে ইফতারিটা করেছিলাম। চ্যানেল আইতে তাঁর সঙ্গে কথা হতো না এমন দিন খুবই কমই আছে। মৃত্যুর আগের দুই মাস অনেক গল্প হয়েছে, অনেক কিছু জেনেছি তাঁর কাছে। তাঁর যাপিত জীবন সম্পর্কে। পবিত্র এই দিনে চলে গেলি ভাই। ইনশা আল্লাহ, ইনশা আল্লাহ তুই বেহেস্তি।”

অভিনেতা গোলাম ফরিদা ছন্দা লিখেছেন, “শামস সুমন ভাই, এটা কী করে হলো! কিছুতেই মানতে পারছি না! তুমি এভাবে চলে যেতে পারো?”

অভিনেত্রী তাহমিনা সুলতানা মৌ শামস সুমনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে লিখেছেন, "২০০২/২০০৩ সালের কথা। এক রোজার মাসে ঈদের নাটকের শুটিং চলছিল জাহাজে। আমার সঙ্গে যে কো-আর্টিস্ট ছিল, সে সেটে এসে আমাকে দেখে হঠাৎ করেই শুটিং ছেড়ে চলে যায়। তখন আপনাকে খবর দেওয়া হলো। আপনি স্পিডবোটে করে এসে লঞ্চে উঠলেন এবং একেবারে নতুন এক মেয়ের সঙ্গে অভিনয় করলেন—সেই মেয়েটিই ছিলাম আমি। নতুন কারও সঙ্গে কাজ করতে আপনার কখনো কোনো দ্বিধা ছিল না। বরং সাহস আর ভরসা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তারপর তো আপনার সঙ্গে আরও কত কাজ, কত স্মৃতি…আজ সেসবই শুধু মনে পড়ছে।”

অভিনেত্রী বিজরী বরকত উল্লাহ লিখেছেন, “যে ছিল আমাদের আড্ডার মধ্যমণি। শুটিংয়ের দিনগুলোতে হাসিঠাট্টায় ভরিয়ে রাখত সারাটা দিন। তোমার গল্পে শুটিংয়ের ক্লান্তিদায়ক দিনটি কেটে যেত কত সহজে। কত শত স্মৃতি, কত শত মজার ঘটনা, ঠাট্টা–তামাশা, কত পরিকল্পনা, কত বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা। তোমার সেই প্রাণ খোলা হাসি। হয়তো তার আড়ালে কত কিছুই–না লুকিয়ে রাখতে। আমরা যারা তোমাকে খুব কাছ থেকে চিনতাম, তাদের স্মৃতিতে, হৃদয়ে তোমার হাসিমাখা মুখটি থাকবে চিরজীবন। সুমন ভাই, তোমার অনন্তযাত্রা যেন শান্তিময় হোক।”

অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি লিখেছেন, “কী শুনলাম? সুমন ভাই, আপনি আর ইহজগতে নাই? এটা আমরা কোন সহকর্মী বিশ্বাস করতে পারছি না! কি অনিশ্চিত এ জীবন? আপনার সব সময়ের হাসিমুখ চোখে রয়ে যাবে সুমন ভাই। অনন্তলোকে আপনি ভালো থাকেন।”

অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন শামস সুমনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথা স্মরণ করে লিখেছেন, “শামস ভাইও চলে গেলেন। ১৯৯৯ সালে প্রথম সুমন ভাইয়ের সঙ্গে কাজ হয় আমার। সেই থেকে তাঁর জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত এক মানুষই ছিলেন, সেই স্নেহ, সেই ভালোবাসা, সুন্দর পরামর্শ আর হাসিঠাট্টা দিয়ে তাঁর সরব উপস্থিতি জানান দেওয়া। যেখানেই থাকবেন ভালো থাকবেন সুমন ভাই।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিনেতা শামস সুমনের মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স ছিল ৬১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। অভিনেতার জানাজা বুধবার সকাল ১১টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

এমআর/আরটিএনএন