বিনোদন, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত,
অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।   ছবি: সংগৃহীত

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়জগতে নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। টলিউডে তাকে ঘিরে নানা আলোচনা থাকলেও সমালোচনা বা বিতর্ককে খুব একটা গুরুত্ব দেন না তিনি। বরং মনোযোগ দেন নিজের কাজেই। সম্প্রতি পরিচালক অরিন্দম শীল এর নতুন রাজনৈতিক থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘কর্পূর’ এ একেবারে ভিন্নধর্মী লুকে দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে।

ছবিটিতে তিনি অভিনয় করছেন ‘মৌসুমী সেন’ নামের এক দৃঢ়চেতা কলেজ অধ্যাপিকার চরিত্রে। চরিত্রের প্রয়োজনে এখানে তার উপস্থিতি একেবারেই সাধারণ। হালকা মেকআপ ও শক্ত করে বাঁধা চুলে তাকে দেখা যাবে পর্দায়। নিজের এই লুক প্রসঙ্গে ঋতুপর্ণা বলেন, একজন অভিনেত্রীর কাজই হলো চরিত্রকে বাস্তব করে তোলা। তাই সব সময় সুন্দর দেখানোর চেয়ে চরিত্রের প্রয়োজনটাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে নিজেকে কম আকর্ষণীয়ভাবেও উপস্থাপন করতে তিনি রাজি।

এদিকে পরিচালক অরিন্দম শীল জানিয়েছেন, ‘কর্পূর’ তার ভাবনায় নির্মিত এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক থ্রিলার, যেখানে গল্প ও চরিত্র দুটোই দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও বেশ ব্যস্ত সময় কাটান ঋতুপর্ণা। সিঙ্গাপুরে সংসার, সন্তানদের দেখভাল এবং কাজ সবকিছুই সমানতালে সামলাচ্ছেন তিনি। তার মতে, গ্ল্যামার জগত ও পারিবারিক জীবন একসঙ্গে ধরে রাখতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। ব্যস্ততার মাঝেও স্বামী সঞ্জয় চক্রবর্তী–র সঙ্গে সময় কাটানোকে তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তার বিশ্বাস, প্রিয় মানুষের সঙ্গই জীবনকে সুন্দর করে তোলে।

টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে সংকীর্ণ গণ্ডিতে আটকে রাখা উচিত নয়। নতুন নির্মাতা ও প্রযোজকদের সুযোগ দিলে ইন্ডাস্ট্রি আরও সমৃদ্ধ হবে। আলোচনার মাধ্যমেই যেকোনো সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

তবে বাস্তব রাজনীতিতে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই তার। এ প্রসঙ্গে হাস্যরস করেই ঋতুপর্ণা বলেন, নিজের জীবনের রাজনীতিই এখনো পুরো বুঝে উঠতে পারিনি, দেশের রাজনীতি বোঝা তো আরও কঠিন। সমাজ নিয়ে ভাবনা থাকলেও নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করতে চান না এই অভিনেত্রী।

সিমু/আরটিএনএন