রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে কিছু পণ্যের দামে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে লেবু, কাঁচামরিচ ও মুরগির দাম কমেছে। তবে বেগুন, গরুর মাংস ও মাছ এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে; এতে ক্রেতাদের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটছে না।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হালিপ্রতি লেবুর দাম এক দিনের ব্যবধানে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। একইভাবে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দামও নেমেছে। তবে বেগুন, গরুর মাংস ও বেশির ভাগ মাছ এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজারে ছোট লেবু হালিপ্রতি ৬০ টাকা, মাঝারি ৮০ টাকা এবং বড় আকারের চারটি লেবু ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আগের দিন এগুলোই ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বিক্রেতাদের ভাষ্য, সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে।
অন্যদিকে, ইফতারের জনপ্রিয় পদ বেগুনির প্রধান উপকরণ বেগুনের দাম শতক ছাড়িয়েছে। মোটা লম্বা বেগুন কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং চিকন বেগুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনি তৈরিতে চিকন বেগুনের চাহিদা বেশি থাকায় এর দামও বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কাঁচামরিচের দামে এক দিনেই বড় পতন দেখা গেছে। শুক্রবার ২০০–২২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মরিচ শনিবার নেমে এসেছে ১২০–১৪০ টাকায়। নতুন চালান আসায় দাম কমেছে বলে জানান বিক্রেতারা।
বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক। আলু সবচেয়ে কম দামে কেজি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভ্যানে ৬ কেজি ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া করলা ১২০, বরবটি ৮০, মুলা ৫০, লতি ৮০ ও ধুন্দুল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০–৫০, গাজর ৩০–৪০, কচুরমুখী ৮০, শিম ৭০–৮০ ও শালগম ৪০–৫০ টাকায় মিলছে। ফুলকপি ৪০–৫০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৩০–৪০ এবং লাউ ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা ও পুদিনা ১০ টাকা আঁটি, লালশাক ১০, পুঁইশাক ২০–৩০ এবং কলমি, ডাঁটাশাক ও পালং ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, অধিকাংশ সবজির দাম স্বাভাবিক। তবে ইফতারে বেশি ব্যবহৃত কিছু পণ্যের চাহিদা বাড়ায় সেগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি।
রমজানের প্রথম দিন ২০০ টাকার ওপরে ওঠা ব্রয়লার মুরগির দাম এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে। সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়, যা প্রথম রোজায় ছিল ৩২০–৩৫০ টাকা।
যাত্রাবাড়ীর সবজি বিক্রেতা লিয়াকত আলী আরটিএনএনকে বলেন, রোজার শুরুতে চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়ে। কয়েক দিন পর সরবরাহ ঠিক হলে বাজারও স্বাভাবিক হয়। এবারও তাই হচ্ছে।
মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও গরুর মাংস এখনো কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। এক মাস আগে যা ছিল ৭৫০–৮০০ টাকা। খাসির মাংস ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও দাম চড়া। রুই ২৮০–৩২০, কাতলা ৩০০–৩৫০, পাঙাশ ১৮০–২০০ ও তেলাপিয়া ১৬০–২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি ৬৫০–৭০০ টাকা। কই ২০০–২৫০, দেশি শিং ৬৫০–৭৫০, শোল ৬৫০ এবং পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হাতিরপুলের মাছ বিক্রেতা শামসুল হক বলেন, এবারের রমজানে মাছের চাহিদা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় দামও একটু বেশি। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে দাম কমতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
আরিফুর রহমান নামের একজন ক্রেতা বলেন, লেবু ও শসার যে দাম, তাতে কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। মাছ-মাংসও অত্যন্ত উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। সহজ কথায় বললে, এটি আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নয়। সরকারের উচিত বাজার তদারকি করা।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!