উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের (স্টে-অর্ডার) কারণে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখাতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে প্রকৃত খেলাপি ঋণের চিত্র আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। এই অর্থ যোগ করলে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এর বাইরে আদালত কর্তৃক স্থগিতাদেশ প্রাপ্ত খেলাপি ঋণ আছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ঋণ ছয় মাস পরিশোধ না হলে তা খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ার কথা। খেলাপি হলে নতুন ঋণ, আমদানি-রপ্তানি সুবিধা, এমনকি ব্যাংকের পরিচালক বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথও বন্ধ থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু অনেক গ্রাহক উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে ঋণ পরিশোধ না করেও নিয়মিত গ্রাহকের সব সুবিধা ভোগ করছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক হাজারের বেশি গ্রাহক এই সুবিধা নিয়েছেন।
গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে স্টে-অর্ডার সংক্রান্ত আইনি ও নীতিগত বিষয়গুলো পর্যালোচনায় ‘ল’ কমিশনের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করা হবে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, সিআইবি ও আইন বিভাগ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সঙ্গে সমন্বয় করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, যেসব মামলায় স্থগিতাদেশ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। সময়মতো আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারও সম্ভব।
ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহমদ গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে।
বিষয়টি নিয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, স্টে-অর্ডার সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। তবে এই আইনি বাস্তবতার মধ্যেই খেলাপি ঋণ সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজতে হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, অনেক ঋণখেলাপি খুব কৌশলী। যারা স্টে-অর্ডার নেন, তাদের অনেকেরই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা থাকে। তবু তারা বছরের পর বছর নিয়মিত সুবিধা নেন। সহজে পুনঃতফসিল করেও সুবিধা ভোগ করেন। এই সংস্কৃতি না বদলালে খেলাপি ঋণ কমবে না।
তিনি প্রস্তাব দেন, স্টে-অর্ডার নিলেও ঋণ পরিশোধের নির্দিষ্ট শর্ত যুক্ত করা যেতে পারে। অথবা আদালতের স্থগিতাদেশ পেলেও ব্যাংকের খাতায় ঋণের শ্রেণি অপরিবর্তিত রাখার বিধান করা যেতে পারে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!