বাংলাদেশ ব্যাংক,  ইসলামী ব্যাংক, আমানতকারী, অভিযোগ,
ইসলামী ব্যাংক লোগো   ফাইল ছবি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অসুস্থ আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সহায়তা হিসেবে মার্জার হওয়া ব্যাংকগুলোর প্রশাসকদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক–সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য একটি বিশেষ স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্কিম অনুযায়ী, প্রথম দিন থেকেই আমানতকারীরা ন্যূনতম ২ লাখ টাকা তুলতে পারবেন। এরপর তিন মাস পর ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তী তিন মাস পর আরও ১ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। এভাবে প্রায় ২১ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ আমানত তুলে নেয়া যাবে।

ডিপোজিট হিসাবের পাশাপাশি এফডিআর ও ডিপিএস হিসাবধারীদের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব আমানত মেয়াদপূর্তির পর প্রথমে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। বাকি অর্থ নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়নের মাধ্যমে উত্তোলন করা যাবে এবং প্রতিবার নবায়নের সময় মুনাফা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

বিশেষ ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থ আমানতকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধার কথাও জানান শাহরিয়ার সিদ্দিকী। তিনি বলেন, কিডনি রোগীসহ জটিল অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সীমাহীন অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে, তবে সে জন্য যথাযথ প্রমাণপত্র দিতে হবে। অন্য যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে পারবেন। এর বেশি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত নিয়মে টাকা তুলতে কোনো সমস্যা হলে আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সরকার আমানতকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এদিকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী করতে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে আবেদন সংগ্রহ ও যাচাই–বাছাই শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত অনুমোদন দেয়া হবে।

একই সঙ্গে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সমন্বয়ের কাজও চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক শাখা একীভূত করা হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় ভাড়া করা কার্যালয় ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে। আইটি খাতে সমন্বয়ের অংশ হিসেবে পাঁচটি ব্যাংকের ভিন্ন কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার এক প্ল্যাটফর্মে আনার কাজও এগিয়ে চলছে।

পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হলেও দ্রুততম সময়ে শেষ করতে কাজ করছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা।