বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে গঠিত রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা এই দাবি জানান।
বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিদল একক ঋণসীমা (সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার লিমিট) বর্তমানের ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়। একই সঙ্গে ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামিয়ে আনা এবং খেলাপি ঋণের নিয়ম কিছুটা শিথিল করারও আহ্বান জানানো হয়।
এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুরক্ষায় বিশেষ নীতিগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান তারা।
গভর্নরের কাছে দেয়া লিখিত প্রস্তাবে এফবিসিসিআই জানায়, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি সরবরাহ ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তারা।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে-
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন: ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করা। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এবং ব্যাংক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা।
সুদের হার ও ঋণপ্রবাহ: বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণের সুদের হার ধীরে ধীরে কমিয়ে এক অঙ্কে আনা। সরকারি ঋণের চাপ কমিয়ে বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি করা।
ডলার সংকট ও তদারকি: বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং ডলারের সরবরাহ নিশ্চিত করা। ওভার-ইনভয়েসিং বা পণ্য আমদানিতে বাড়তি মূল্য দেখানো বন্ধে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
নীতিগত সহায়তা ও খেলাপি ঋণ: ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের ঋণ পুনঃতফশিলের সময়সীমা ৩ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলেও অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের পুনর্বাসনে নীতিগত সহায়তা দেয়া।
অন্যান্য দাবি: প্রবাসী আয় বাড়াতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতহীন ঋণের সুবিধা বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা।
এ ছাড়া শিল্প খাতের ব্যাংকিং সমস্যা দ্রুত সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!