যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন, তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে হুশিয়ারী ইরানের।
যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন, তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে হুশিয়ারী ইরানের।   ছবি: সংগৃহীত

যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন, তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে হুশিয়ারী দিলেন ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ। আর ইরানের আইনে এ অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। খবরটি জানায় এনডিটিভি। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমনকি যারা ‘দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করেছেন’, তারাও একই অভিযোগের মুখোমুখি হবেন।

শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়, “সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের ‘মোহারেব’ (আল্লাহর শত্রু) বলে ঘোষণা করছে ইসরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র। ‘মোহারেব’-দের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।”

দণ্ডবিধির ১৯০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘মোহারেব’-এর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর,যা মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা অথবা স্থায়ীভাবে দেশের অভ্যন্তরে নির্বাসন দেয়া হতে পারে। ।

 বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপক্ষকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে এবং বিলম্ব না করে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার পথ তৈরি করতে হবে এবং যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে বিদেশি আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও চূড়ান্ত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘কোনো ধরনের শিথিলতা, সহানুভূতি বা ছাড় না দিয়েই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে।’

মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এসব বিক্ষোভে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন । আটক করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে । বৃহস্পতিবার থেকে তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে এবং টেলিফোন লাইনও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে শনিবার ও রোববার রাস্তায় নামতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বিক্ষোভকারীদের শাহ আমলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত সিংহ-সূর্য চিহ্নযুক্ত পুরোনো ইরানি পতাকা ও অন্যান্য জাতীয় প্রতীক বহন করার আহ্বান জানান। 

রাজধানী তেহরানে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশটির সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে।  বিবিসি পারসিয়ান অন্তত ২৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে ছয়জন শিশু।

বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একটি মানবাধিকার সংস্থা জানায় নিহত নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা অন্তত ১৪। ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৫ জনে।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় তেহরানে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে যান, যানবাহনে আগুন দেন এবং  কারাজ শহরে একটি সরকারি ভবন জ্বালিয়ে দেয়। 
এমআর/আরটিএনএন