ইরাক সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পশ্চিম ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণরূপে তাদের সেনা প্রত্যাহার করেছে। শনিবার ইরাকি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যার আওতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের কার্যক্রম গুটিয়ে আনা এবং বিভিন্ন ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের চলে যাওয়ার কথা ছিল।
তবে মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা ও সহায়ক কর্মীদের একটি ছোট দল সেখানে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশিদিন অবস্থান করে। গত অক্টোবরে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মূল চুক্তিতে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আইন আল-আসাদ ঘাঁটি থেকে পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা থাকলেও, ‘সিরিয়ার পরিস্থিতির’ কারণে ২৫০ থেকে ৩৫০ জন উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা কর্মীর একটি ছোট দলকে সেখানে রাখার প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমানে সব মার্কিন কর্মী ঘাঁটিটি ত্যাগ করেছেন।
ইরাকি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর ইরাকি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল আমির রশিদ ইয়ারাল্লা ঘাঁটিতে বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের দায়িত্ব বণ্টন কার্যক্রম তদারকি করেন এবং সেনাবাহিনী ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেনারেল ইয়ারাল্লা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রচেষ্টা জোরদার, যৌথ কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং ঘাঁটির সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থানকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সব মার্কিন সেনা ঘাঁটি ত্যাগ করেছে এবং তারা তাদের সব সরঞ্জামও সরিয়ে নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
অবশ্য উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চল এবং প্রতিবেশী সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি এখনও বজায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থান দেশে রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণের আলোচনায় ইরাক সরকারের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। কারণ এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনেকেই মার্কিন উপস্থিতিকে নিজেদের হাতে অস্ত্র রাখার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করত।
এর আগে জুলাই মাসে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী আল-সুদানি বলেছিলেন, জোটের প্রত্যাহার সম্পন্ন হলে “রাষ্ট্রের আওতার বাইরে কোনো গোষ্ঠীর অস্ত্র বহনের আর কোনো প্রয়োজন বা যৌক্তিকতা থাকবে না।”
সূত্র: এবিসি নিউজ
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!