লেবানন, ইসরায়েল
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের আল-মানার টেলিভিশন স্টেশনের এক উপস্থাপক নিহত হয়েছেন   ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের আল-মানার টেলিভিশন স্টেশনের এক উপস্থাপক নিহত হয়েছেন। সোমবার লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং আল-মানার টিভি কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত উপস্থাপকের নাম আলী নূর আল-দিন। তিনি হিজবুল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত আল-মানার টিভিতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন।

হিজবুল্লাহ ও আল-মানার টিভির বিবৃতি :
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টায়ারের উপশহর আল-হাওশ এলাকার প্রধান ধর্মপ্রচারক এবং আল-মানার টিভির সাবেক উপস্থাপক আলী নূর আল-দিনকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক গুপ্তহত্যা’র মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, এই হত্যাকাণ্ড ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইসরায়েলের আগ্রাসন এখন গণমাধ্যম কর্মীদের ওপরও বিস্তৃত হচ্ছে।

লেবাননের তথ্যমন্ত্রীর নিন্দা :
লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, "ইসরায়েলি হামলা থেকে সাংবাদিক বা মিডিয়া কর্মীরাও রেহাই পাচ্ছেন না।" তিনি নিহত উপস্থাপকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং লেবাননে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ইসরায়েলের দাবি :
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরবর্তীতে আলী নূর আল-দিনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তবে তারা তাকে হিজবুল্লাহর সদস্য হিসেবে অভিহিত করেছে। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে এলাকায় পৃথক হামলায় আরও দুজনকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সাংবাদিকদের প্রাণহানি ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন :
কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ)-এর তথ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তবে অন্যান্য পর্যবেক্ষকদের মতে এই সংখ্যা ১০।

২০২৪ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল লেবাননে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি :
সোমবার হিজবুল্লাহ তার সমর্থকদের ইরানের সমর্থনে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "ইরানের ওপর যেকোনো আক্রমণ মানেই হিজবুল্লাহর ওপর আক্রমণ।" তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার হুমকির বিষয়েও সতর্ক করে বলেন, এই হুমকি হিজবুল্লাহ নিজেদের ওপর হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করে। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে হামলার হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে এবং মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই