গাজা, ফিলিস্তিন, হামাস, ইসরায়েল
রাফাহ ক্রসিংয়ে একশোর বেশি গুরুতর আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনি জড়ো হয়েছিলেন কিন্তু ইসরায়েল তাদের অধিকাংশকেই যেতে দেয়নি।   ছবি: সংগৃহীত

রাফাহ দিয়ে গাজার রোগীদের বের হতে দিচ্ছে না ইসরায়েল : জাতিসংঘ মহাসচিবের জরুরি আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার আবারও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—গাজায় অবিলম্বে মানবিক সাহায্য প্রবেশ করতে দিন এবং যুদ্ধে আহত-অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার পথ খুলে দিন।

কথাগুলো তিনি বললেন ঠিক সেইদিন, যেদিন রাফাহ ক্রসিংয়ে একশোর বেশি গুরুতর আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনি জড়ো হয়েছিলেন—আশায় যে মিশর হয়ে বিদেশে চিকিৎসা করাতে পারবেন। কিন্তু ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের অধিকাংশকেই যেতে দেয়নি। “রাফাহ ক্রসিংসহ সব পথে বড় পরিসরে এবং বাধাহীনভাবে মানবিক সাহায্য প্রবেশ করতে দিতে হবে,” গুতেরেস বলেন।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানান, মঙ্গলবার মাত্র ১৬ জনকে মিশরে যেতে দেওয়া হয়েছে। সোমবার ছিল মাত্র ৫ জন। গাজায় ফিরতে দেওয়া হয়েছে ১২ জনকে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছিলেন প্রতিদিন ৫০ জন করে যেতে-আসতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে সংখ্যাটা তার দশমাংশও নয়।

“কেন এত দেরি হচ্ছে, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই,” খুদারি বলেন। “প্রক্রিয়াটা অসম্ভব দীর্ঘ। যারা যাচ্ছে তাদের সবকিছু ফেলে যেতে হচ্ছে। প্রায় দু’বছর ধরে রাফাহ বন্ধ ছিল। এখন খুলেছে ঠিকই, কিন্তু সত্যিকারের দরজা খোলেনি।” তিনি জানান, গাজায় এখনো প্রায় ২০ হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

 ১৯ বছরের যুবককে গুলি করে হত্যা

এদিকে, অক্টোবরে কার্যকর হওয়া তথাকথিত “যুদ্ধবিরতি” সত্ত্বেও খান ইউনিসের কাছে ইসরায়েলি সেনারা ১৯ বছরের এক ফিলিস্তিনি যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে। নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, যেখানে গুলি হয়েছে, সেখানে ইসরায়েলি সেনারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয়নি। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৫২৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গেছে। গুরুতর আহত ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা ভেতরে কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

৩৭ বছরের শাদি সোবোহ ১০ মাস ধরে হাড় প্রতিস্থাপনের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেয়েও যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, “পিস বোর্ড কোথায়? দুনিয়া কোথায়? আমার পা কেটে ফেলার জন্য অপেক্ষা করছে?” গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালমিয়া ফেসবুকে লিখেছেন: “রোগীদের বের হতে না দেওয়া এবং ওষুধ ঢুকতে না দেওয়া মানে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া।”

রাফাহ ক্রসিং অক্টোবরের মাঝামাঝি খোলার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকৃত যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ হিসেবে। কিন্তু ইসরায়েল জিম্মিদের মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত খুলতে রাজি হয়নি। সর্বশেষ মরদেহ ২৬ জানুয়ারি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও দরজা পুরোপুরি খোলেনি।

 

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই