মোজাম্বিক, বন্যা
কর্তৃপক্ষের মতে, এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে মোজাম্বকের অন্যতম বিধ্বংসী বন্যা   ছবি: সংগৃহীত

মোজাম্বিকের গাজা প্রদেশের চোকওয়ে শহর এখন পানির নিচে। ৩০ বছর বয়সী এমিলিয়া মাচেল তার তিন সন্তানকে নিয়ে চিয়াকুয়েলান আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। এটি তার জন্য নতুন কিছু নয়; ২০০০ ও ২০১৩ সালের ভয়াবহ বন্যাতেও তিনি প্রাণ বাঁচাতে এখানে এসেছিলেন। এমিলিয়া বলেন, “আমরা জানতাম বন্যা হবে, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ।”

প্রবল বৃষ্টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা লিম্পোপো নদীর উপচে পড়া পানিতে মোজাম্বিকের দক্ষিণ ও মধ্যবর্তী প্রদেশগুলোতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বিধ্বংসী বন্যা। এতে অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদিও বৃষ্টি কিছুটা কমেছে, তবুও ইউনিসেফের কর্মকর্তাদের মতে, আকাশ থেকে দেখলে মনে হয় মাইলের পর মাইল এলাকা যেন মহাসাগরে পরিণত হয়েছে।

বন্যায় দেশটির কোটি কোটি ডলারের অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে শত শত হেক্টর ফসল ও খাদ্যের গুদাম ভেসে গেছে। রাজধানী মাপুতো এবং জনবহুল শহর মাটোলাতেও জলাবদ্ধতা ও ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়া দপ্তর আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল। কিন্তু লুণ্ঠনের ভয় বা যাওয়ার জায়গা না থাকায় অনেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। সরকার ও জাতিসংঘ ত্রাণ সহায়তা দিলেও সম্পদের তীব্র সংকট রয়েছে। তার ওপর উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতায় শিশুদের অপুষ্টি ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

এত কিছুর পরেও এমিলিয়ার মতো হাজারো মানুষ হার মানতে নারাজ। আশ্রয়কেন্দ্রের কঠিন জীবনে এক বেলা খাবার জুটলেও তাদের লক্ষ্য একটাই—পানি কমলে ফিরে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের ওপরই আবার নতুন করে জীবন গড়া। এমিলিয়া বলেন, “যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক, কিন্তু আমাদের বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করতেই হবে।”

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই