অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ঘোষণা করেছেন, সিরিয়ায় সন্দেহভাজন আইএসআই যোদ্ধাদের আত্মীয় হিসেবে চিহ্নিত অস্ট্রেলীয় নারী ও শিশুদের দেশে ফিরিয়ে আনবে না তাঁর সরকার। মঙ্গলবার এবিসি নিউজকে আলবানিজ বলেন, “আমাদের সুদৃঢ় অবস্থান হলো, আমরা কোনো সহায়তা বা প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেব না।”
আলবানিজ উল্লেখ করেন যে, এতে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা “দুর্ভাগ্যজনক”, কিন্তু অস্ট্রেলিয়া “কোনো ধরনের সহায়তা দিচ্ছে না।” একটি প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার মা যেমনটা বলতেন—তুমি যেমন কর্ম করবে, তেমন ফলই ভোগ করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যারা আমাদের জীবনব্যবস্থাকে ক্ষুণ্ন ও ধ্বংস করার লক্ষ্যে তথাকথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অংশ নিতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল, তাদের প্রতি আমাদের বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই, সত্যি বলতে।” অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, সিরিয়া থেকে যারা অস্ট্রেলিয়ায় ফিরবে, তারা যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তবে তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই মুখপাত্র বলেন, “এই দলের মানুষদের জেনে রাখা উচিত, যদি তারা কোনো অপরাধ করে থাকে এবং অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসে, তবে তাদের ওপর আইনের পূর্ণ কঠোরতা প্রয়োগ করা হবে।” গত সোমবার উত্তর সিরিয়ার কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত ‘রোজ ডিটেনশন ক্যাম্প’ থেকে অস্ট্রেলীয় নাগরিকত্ব থাকা মোট ৩৪ জন নারী ও শিশুকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
আইএস যোদ্ধাদের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত এই অস্ট্রেলীয়দের পরবর্তীতে “প্রযুক্তিগত কারণে” আবার ক্যাম্পে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে। রোজ ক্যাম্পের পরিচালক হাকমিয়া ইব্রাহিম আল জাজিরাকে জানান, ১১টি পরিবারের ওই নারী ও শিশুদের তাদের আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, “যারা তাদের নিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছিলেন”।
নারী ও শিশুদের মিনিবাসে করে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দিকে যেতে দেখা যায়, যেখান থেকে তাদের অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আলেপ্পো থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি হাইদি পেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রাপথের মাঝামাঝি গিয়ে কুর্দি এসকর্টদের ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। কারণ ওই দলটির “সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রবেশের” অনুমতি ছিল না।
রোজ ক্যাম্পের কর্মকর্তা রশিদ ওমর পরে এএফপি-কে নিশ্চিত করেন যে, অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের আবার ডিটেনশন সেন্টারে ফিরে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি জানান, পরিবারগুলোর প্রতিনিধিরা সিরীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অস্ট্রেলীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ
মানবিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন অস্ট্রেলিয়া’ ২০২৩ সালে ১১ জন নারী ও ২০ জন শিশুর পক্ষে একটি মামলা দায়ের করেছিল। তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের প্রতি সরকারের “নৈতিক ও আইনি দায়বদ্ধতা”র কথা উল্লেখ করে তাদের প্রত্যাবাসন দাবি করে। তবে ফেডারেল কোর্ট সেভ দ্য চিলড্রেনের বিপক্ষে রায় দেয়। আদালত জানায়, সিরিয়ায় তাদের আটক রাখার ওপর অস্ট্রেলীয় সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
২০২২ সালে সিরিয়ায় আটক থাকা অবস্থায় ১৭ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় কিশোরের মৃত্যু হয়। মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক রজার শানাহান আল জাজিরাকে বলেন, ডিসেম্বরে সিডনিতে একটি ইহুদি উৎসবে বন্ডি বিচে ভয়াবহ হামলার ঘটনার পর সিরিয়া থেকে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অস্ট্রেলীয় সরকার তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছিল। শানাহান বলেন, “আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়ার জনগণের মধ্যে একটা উদ্বেগ কাজ করছে যে, এসব মানুষ বাহ্যিকভাবে তাদের উগ্র মতবাদ ত্যাগ করার ভান করলেও মনের গহীনে তারা তা লালন করে।”
কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী এখনো রোজ ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ করলেও, জানুয়ারি মাসে তারা বৃহত্তর আল-হোল ক্যাম্প থেকে সরে আসে। তখন সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এক সময় আল-হোল ক্যাম্পে প্রায় ২৪,০০০ মানুষ ছিল, যাদের বেশিরভাগই সিরীয় ও ইরাকি, তবে বিদেশি নাগরিকত্বের ৬,০০০-এর বেশি নারী ও শিশুও সেখানে ছিল।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার সিরিয়ার ক্যাম্পগুলো থেকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে অনীহা প্রকাশ করে আসছে। রোজ ক্যাম্পে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া শামীমা বেগমও ছিলেন। ২০১৫ সালে ১৫ বছর বয়সে তিনি এবং অন্য দুই কিশোরী লন্ডন থেকে সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়ে আইএসআইএল যোদ্ধাদের বিয়ে করেছিলেন। ২০১৯ সালে সিরিয়ার একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে তাঁকে খুঁজে পাওয়ার পরপরই যুক্তরাজ্য সরকার তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করে।
এরপর থেকে শামীমা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আপিল আদালতে খারিজ হয়ে যায়। বাংলাদেশি বাবা-মায়ের সন্তান হলেও শামীমা বেগমের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নেই। খবর অনুযায়ী, তিনি এখনো রোজ ক্যাম্পেই রয়েছেন।
সূত্র : রয়টার্স
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!