সুদানের মধ্যাঞ্চলীয় কর্দোফান এলাকার একটি বাজারে ড্রোন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তর কর্দোফান রাজ্যের সোদারি শহরের আল-সাফিয়া বাজারে ড্রোনগুলো এই বোমাবর্ষণ করে।
সংস্থাটি জানায়, রবিবার যখন এই হামলার ঘটনা ঘটে, তখন বাজারটি লোকে লোকারণ্য ছিল। তারা একে "মানবিক বিপর্যয়কে আরও প্রকট করে তোলা" ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “হামলার সময় বাজারটি নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সাধারণ নাগরিকদের উপস্থিতিতে সরগরম ছিল।”
সংস্থাটি আরও যোগ করে, “জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বারবার ড্রোন ব্যবহার বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবহেলার শামিল। এটি সংঘাত বৃদ্ধির এমন এক ইঙ্গিত, যা প্রদেশের অবশিষ্ট স্বাভাবিক জনজীবনকেও হুমকির মুখে ফেলছে। তাই আমরা সংঘাতরত উভয় পক্ষের প্রতি অবিলম্বে ড্রোন হামলা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”
সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী ‘র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (আরএসএফ)-এর মধ্যে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ রণাঙ্গন হলো এই এলাকাটি। সোদারি একটি প্রত্যন্ত শহর যেখানে মরুভূমির বাণিজ্য পথগুলো মিলিত হয়েছে। এটি উত্তর কর্দোফানের রাজধানী এল-ওবেদ থেকে ২৩০ কিলোমিটার (১৩২ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। আরএসএফ গত কয়েক মাস ধরে এই এল-ওবেদ শহরটি ঘেরাও করার চেষ্টা করছে।
কর্দোফান অঞ্চলে সম্প্রতি প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার ঘটনা বেড়েছে। দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম অক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে উভয় পক্ষই লড়ছে। এই পথটি পশ্চিমে আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুর অঞ্চলকে এল-ওবেদের মাধ্যমে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী খার্তুম এবং সুদানের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
গত বছর দারফুরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পর, আরএসএফ এখন সুদানের কেন্দ্রীয় করিডোর দখলের উদ্দেশ্যে তেল ও স্বর্ণসমৃদ্ধ কর্দোফানের মধ্য দিয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইমার্জেন্সি লয়ার্স ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ জানিয়েছে, রবিবার বাজারে হামলাকারী ড্রোনগুলো সেনাবাহিনীর ছিল।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন সামরিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা ‘দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’কে বলেছেন, সেনাবাহিনী বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং তারা এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এক সপ্তাহ আগে, উত্তর কর্দোফানের রাহাদ শহরের কাছে একটি ড্রোন হামলায় বাস্তুচ্যুত পরিবার বহনকারী একটি গাড়িতে আঘাত হানলে অন্তত ২৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে আটটি শিশু ছিল। ওই হামলার একদিন আগে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) একটি ত্রাণবহরেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল।
‘বর্বরোচিত ও ভয়াবহ’ সহিংসতা
২০২৩ সালের এপ্রিলে আরএসএফ এবং সুদানের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ পুরো দেশে সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, বিস্তীর্ণ ও দুর্গম এলাকায় যুদ্ধের কারণে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান সম্প্রতি বলেছেন, যুদ্ধরত পক্ষগুলো কৌশলগত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠায় কর্দোফান অঞ্চলটি "অস্থিতিশীল এবং সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে" পরিণত হয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষের দিকে দারফুরে আরএসএফ "তীব্র সহিংসতার ঢেউ" ছড়িয়ে দিলে মাত্র তিন দিনে ৬,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হন। ওই সহিংসতাকে "আয়তন ও নৃশংসতায় মর্মান্তিক" বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, অক্টোবরের শেষের দিকে এল-ফাশের শহর (যা একসময় সেনাবাহিনীর ঘাঁটি ছিল) দখলের জন্য আরএসএফ-এর অভিযানে ব্যাপক নৃশংসতা চালানো হয়, যা যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধের শামিল। এই যুদ্ধ বিশ্বের বৃহত্তম ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি করেছে। এটি কার্যকরভাবে দেশটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে—কেন্দ্র, উত্তর এবং পূর্ব অংশ সেনাবাহিনীর দখলে; অন্যদিকে পশ্চিম এবং দক্ষিণের কিছু অংশ মিত্রদের নিয়ে আরএসএফ-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!