অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ বিস্তার এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিশাল অংশকে ইসরায়েলি "রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি" হিসেবে দাবি করার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের ৮০টিরও বেশি সদস্য রাষ্ট্র। মঙ্গলবার ৮৫টি সদস্য রাষ্ট্র এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার জোটের পক্ষে কথা বলার সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেন, "আমরা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বেআইনি উপস্থিতি বিস্তারের লক্ষ্যে নেওয়া একতরফা সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।"
মনসুর আরও বলেন, "এ ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে তার পরিপন্থী এবং এগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের সংযুক্তি বা দখলের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি।" তিনি বলেন, "পূর্ব জেরুজালেমসহ ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জনতাত্ত্বিক গঠন, চরিত্র এবং মর্যাদা পরিবর্তনের লক্ষ্যে গৃহীত সমস্ত পদক্ষেপ আমরা আবারও প্রত্যাখ্যান করছি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার চলমান প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করে, 'সমন্বিত পরিকল্পনা'র (Comprehensive Plan) বিরোধিতা করে এবং সংঘাত অবসানে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে ঝুঁকিতে ফেলে।"
উল্লেখ্য, 'সমন্বিত পরিকল্পনা' হলো গত নভেম্বরে ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি, যার লক্ষ্য ছিল গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটানো। এই চুক্তিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করার শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মঙ্গলবারের এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, পাকিস্তান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লীগ এবং ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন)-এর মতো সংস্থাও এতে স্বাক্ষর করেছে।
১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শুরুর পর এই প্রথম পশ্চিম তীরের 'সেকশন সি'-তে ইসরায়েল ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই উক্ত যৌথ বিবৃতিটি দেওয়া হলো। অবৈধ বসতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'পিস নাও'-এর তথ্যমতে, পশ্চিম তীরের ভূখণ্ডের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়েই এই 'সেকশন সি' গঠিত।
এই সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছিলেন যে, ইসরায়েলের এই ভূমি নিবন্ধন পরিকল্পনা "ফিলিস্তিনিদের তাদের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করতে পারে এবং ওই এলাকায় ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।"
গুতেরেস সতর্ক করেন যে এই প্রক্রিয়াটি "অস্থিতিশীল" এবং "বেআইনি" হতে পারে। তিনি ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) একটি ঐতিহাসিক রায়ের উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অবৈধ এবং তা অবশ্যই শেষ হতে হবে।
আইসিজে তাদের রায়ে বলেছিল, "দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েল তার মর্যাদার যে অপব্যবহার করছে," তা "অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের উপস্থিতিকে অবৈধ" করে তুলেছে। আদালত আরও যোগ করে, "পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট শাসনব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তা বজায় রাখা হচ্ছে।"
আইসিজে-এর তথ্যমতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করে। তারা প্রায় ৩০০টি বসতি এবং ফাঁড়িতে ছড়িয়ে আছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সম্পূর্ণ অবৈধ। এদিকে মঙ্গলবার একটি পৃথক ঘটনায় ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জর্ডান ভ্যালি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে রাখা গোলাবারুদে ১৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ওয়াফা জানায়, আহত ১২ ও ১৪ বছর বয়সী শিশু দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!