বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকার এমন একটি নতুন আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে, যার মাধ্যমে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে রাজকীয় উত্তরাধিকারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। শুক্রবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সাবেক প্রিন্সের সম্পর্কের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, "চলমান পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" যুক্তরাজ্যের প্রেস অ্যাসোসিয়েশন নিউজ সার্ভিস জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের সরকার মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের ওপর তদন্ত শেষ হলে "এমন আইন প্রবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।" বর্তমানে তিনি ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারীদের তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নিজের ৬৬তম জন্মদিনে সরকারি দায়িত্বে অবহেলার সন্দেহে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযোগের সঙ্গে এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের যোগসূত্র রয়েছে। তাকে ১১ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে রাখার পর তদন্তাধীন অবস্থায় মুক্তি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার গ্রেপ্তারের পর পরিচালিত একটি ইউগভ (YouGov) জরিপে দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন তাকে ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত।
রাজা তৃতীয় চার্লস ইতিমধ্যে তার ছোট ভাই এবং প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ছেলে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের রাজকীয় খেতাব কেড়ে নিয়েছেন এবং বার্কশায়ারের উইন্ডসরে অবস্থিত রয়্যাল লজের বাসভবন থেকেও তাকে উচ্ছেদ করেছেন। চার্লস স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং পুলিশের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা রয়েছে। শুক্রবার পুলিশ মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের সাবেক বাসভবনে তল্লাশি অব্যাহত রাখে এবং তদন্তের মোড় ঘুরে যায় তার সাবেক দেহরক্ষী বা ক্লোজ প্রোটেকশন ইউনিটের সদস্যদের দিকে—তারা কী দেখেছেন বা জানেন, সেদিকেই এখন পুলিশের নজর।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ শুক্রবার জানিয়েছে, তারা মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা বর্তমান ও সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, "তাদের ওই সময়ে দায়িত্ব পালনকালে যা কিছু দেখেছেন বা শুনেছেন, তা আমাদের চলমান পর্যালোচনার জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে কি না—সেটি ভেবে দেখতে বলা হয়েছে এবং আমাদের সহায়তা করতে পারে এমন যেকোনো তথ্য শেয়ার করতে অনুরোধ করা হয়েছে।"
পুলিশ আরও বলে, "যাদের কাছে নতুন বা প্রাসঙ্গিক কোনো তথ্য আছে, তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান আমরা অব্যাহত রেখেছি। সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে এবং যেকোনো তথ্যের যথাযথ মূল্যায়ন ও তদন্ত করা হবে।" ব্রিটিশ পুলিশ এর আগেও এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখেছিল যে, মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের দেহরক্ষীরা এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে তার সফরগুলোর বিষয় এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেহরক্ষীদের কোনো অপরাধ পাওয়া যায়নি।
মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো অন্যায়ে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে আত্মহত্যা করেছিলেন। ২০২২ সালে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর প্রয়াত ভার্জিনিয়া জিওফ্রের করা একটি দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি করেছিলেন, যার অর্থের পরিমাণ ১২ মিলিয়ন পাউন্ড (১৬.২ মিলিয়ন ডলার) বলে জানা যায়। জিওফ্রে অভিযোগ করেছিলেন যে কিশোর বয়সে এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্থানে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন।
গত বছর আত্মহত্যা করা জিওফ্রে দাবি করেছিলেন যে ক্যারিবিয়ানে এপস্টেইনের দ্বীপে এক আসরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে একের পর এক তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্তরাজ্যে জনরোষ বেড়েই চলেছে। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত থাকাকালে সাবেক প্রিন্স পেডোফাইল বা শিশু যৌনকামী অর্থদাতা এপস্টেইনের সঙ্গে গোপন তথ্য শেয়ার করেছিলেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের তদন্ত শুরু করেছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!