রোজা , অনিচ্ছায় বমি , রোজা ভঙ্গ, কাফফারা, শরীর দুর্বল,
সঠিকভাবে রোজা পালন করতে ছোট ছোট বিষয় জানা জরুরি ।   ফাইল ছবি

কোনো কারণে রোজা অবস্থায় অনিচ্ছায় বমি হলে কি রোজা ভেঙে যাবে? এছাড়াও অনিচ্ছায় বমি হওয়ার পর শারিরীক অসুস্থতা দেখা দিলে অর্থাৎ শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে রোজা রাখা সম্ভব হচ্ছে না; এমন অবস্থায় রোজা ভেঙে ফেললে— সেই রোজার জন্য শুধু কাজা আদায় করলে হবে? নাকি কাফফারাও দিতে হবে?

রোজা অবস্থায় বমি হলে রোজা ভাঙবে কিনা, এ নিয়ে অনেকেই আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে থাকি। এর মধ্যে অনেকেই জানতে চান, রোজা অবস্থায় বমি করলে বা অজ্ঞান হয়ে গেলে কি রোজা ভেঙে যাবে কি না।

রোজা রাখার বেশ কিছু নিয়ম আছে। সঠিকভাবে রোজা পালন করতে ছোট ছোট বিষয় জানা জরুরি। এ ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, বমির পরিমাণ বেশি হোক বা কম, সেটা খাদ্য বমি হোক বা রক্ত বমি, মনে রাখতে হবে—রোজা হলো পানাহার না করার নাম। বমি হলে তো পানাহার করা হয় না; বরং তার বিপরীত হয়। তাই রোজা অবস্থায় বমি হলে রোজা ভাঙবে না।

তবে বমি হওয়ার পর রোজা পালনে সক্ষম হলে তা পূর্ণ করবে; অক্ষম হলে রোজা ছেড়েও দিতে পারবে। এ রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে; কাফফারা প্রয়োজন হবে না। বমি মুখে আসার পর তা গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে। ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোজা ভঙ্গ হবে। এমতাস্থায় কাজা ও কাফফারা উভয়টাই আদায় করতে হবে।

হাদিসে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তির বমি হলে তাকে রোজা কাজা করতে হবে না (অর্থাৎ তার রোজা ভাঙবে না)। আর যে ইচ্ছাকৃত বমি করবে, সে যেন রোজার কাজা করে। (তিরমিজি, হাদিস : ৭২০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/১৮০; আল বাহরুর রায়েক : ২/২৪৭)

অনুরূপভাবে কোনো কারণে অজ্ঞান হলে (যাতে সাধারণত রোজার বিপরীত কিছু ঘটে না) রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে দুর্বলতা বা অসুস্থতার কারণে প্রয়োজনে পানাহার বা ওষুধ সেবনে রোজা ভাঙলে পরে কাজা আদায় করে নিতে হবে।