পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বিমান হামলা
কাবুলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে   ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পাকিস্তান টিভি জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী গত কয়েক ঘণ্টায় তালেবানের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি "ধ্বংস" করেছে। এই হামলায় অনেক আফগান তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে অথবা তাদের পোস্ট ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পাকিস্তান টিভির তথ্যমতে, পাকিস্তানি হামলায় যেসব স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:

  • কান্দাহারে তালেবানের একটি ব্রিগেড সদর দপ্তর ও গোলাবারুদের ডিপো
  • ওয়ালি খান সেক্টরে তালেবানের একটি পোস্ট
  • শাওয়াল সেক্টরের কাছে পাকতিকায় তালেবানের একটি পোস্ট
  • বাজাউর সেক্টরে একাধিক তালেবান পোস্ট
  • আঙ্গুর আড্ডায় একাধিক তালেবান পোস্ট

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি স্থানীয় সময় রাত ৩:৪৫ পর্যন্ত হতাহতের একটি তালিকা এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করেন।

তবে উপস্থাপিত সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • ১৩৩ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
  • কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
  • আফগান তালেবানের ২৭টি পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৯টি দখল করা হয়েছে।
  • ৮০টিরও বেশি "ট্যাংক, আর্টিলারি বা কামান এবং সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে।"

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এর আগে জানিয়েছিলেন যে, পাকিস্তান কাবুল ও কান্দাহারের পাশাপাশি আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশে অন্তত একটি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে। তিনি এক্সে দাবি করেন যে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে এই খবরটি যাচাই করা হয়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তানের জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এক সরকারি বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো শত্রুতামূলক অভিপ্রায় মোকাবিলার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সশস্ত্র বাহিনী দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো হুমকি বরদাস্ত না করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।" তিনি আরও বলেন, "মাতৃভূমি রক্ষায় কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।" তিনি যোগ করেন, "আমরা সর্বদা শান্তি চেয়েছি, কিন্তু দেশের ঐক্যে কোনো আঁচ লাগতে দেওয়া হবে না এবং সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর মোকাবিলা করবে।" জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষের খবর গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিকের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ওপর জোর দিয়েছেন। সংঘাত অব্যাহত থাকায় গুতেরেস উভয় পক্ষকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়ার জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসলামাবাদের তথ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছিল যে, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ দুই দেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের একাধিক স্থানে গুলি চালিয়েছে। মন্ত্রণালয় এক্সে লিখেছে, "আফগান তালেবান ভুল হিসাব কষে খাইবার পাখতুনখোয়ায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের একাধিক স্থানে বিনা উসকানিতে গুলি চালিয়েছে, যার তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিচ্ছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।"

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, "চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্দ, কুররম এবং বাজাউর সেক্টরে তালেবান শাসকগোষ্ঠীর বাহিনীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে আফগান সীমান্তে ভারী হতাহত এবং একাধিক পোস্ট ও সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।"

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই