চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইরানে,  সামরিক অভিযান, যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন,
গুরুতর আহতদের কয়েকজন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন, যা যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।   ছবি : তুর্কি টুডে

চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৪০ জন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। 

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর গত ১০ দিনের ধারাবাহিক হামলার সময় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে পরিচালিত এই অভিযানের সময় আহত হওয়া সেনাদের বেশিরভাগই তুলনামূলকভাবে সামান্য আহত হয়েছেন। ইতোমধ্যে আহতদের মধ্যে ১০৮ জন সেনা চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন। তবে আটজন সেনার অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে এবং তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 

এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, গুরুতর আহতদের কয়েকজন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন, যা যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধের মানবিক মূল্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সামরিক ব্রিফিংয়ে জানান, মঙ্গলবারের অভিযান যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর একটি হতে পারে। তার ভাষায়, ওইদিন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান মোতায়েন করা হবে এবং ব্যাপক হামলা পরিচালিত হবে। 

তিনি বলেন, অভিযান এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে লক্ষ্যবস্তুগুলোকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন করেছে মার্কিন বাহিনী।

পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ আরও বলেন, “এই দিনেই সবচেয়ে বেশি যোদ্ধা অংশ নেবে, সবচেয়ে বেশি বোমারু বিমান অভিযান চালাবে এবং হামলার সংখ্যাও হবে সর্বোচ্চ।” তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে যুদ্ধের গতি বাড়িয়ে দ্রুত সামরিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে।

তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধ শুরুর পর সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। এটি সামরিক চাপের ফল কিনা বা ইরানের নতুন কৌশলগত অবস্থান—তা এখনও পরিষ্কার নয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামরিক অভিযান যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনি হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কাও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।