ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, খারগ দ্বীপ
ইরানের খারগ দ্বীপ   ছবি: সংগৃহীত

খারগ দ্বীপে হামলার ঘটনার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে ফিরে পেতে চাইছেন। এটা কারও অজানা নয় যে, এই সংঘাতে ইরানের প্রধান হাতিয়ার বা তুরুপের তাস হলো হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ। সেখান দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়ে তারা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

বিষয়টি নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ৩২টি সদস্য দেশের মধ্যেও জোর আলোচনা চলছে যে, এখন কী করণীয়। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আইইএ-কে তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তে একমত হতে হয়েছে। আর এটাই ইরানের জন্য বড় সুবিধাজনক অবস্থান বা ‘লিভারেজ’ তৈরি করেছে।

এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টতই পাল্টা চাপ সৃষ্টি বা পরিস্থিতির ঝাঁজ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে তিনি দেশটির নিজস্ব তেল শিল্প ধ্বংস করে দেবেন। এখন দেখার বিষয় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

ইরান কি উত্তেজনা কমিয়ে প্রণালীটি খুলে দেবে? নাকি পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে মোড় নেবে? আমরা এখনো ইরানি নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাইনি।

সাধারণত দেখা যায়, ইসরায়েলি বা আমেরিকানরা কোনো হামলার ঘোষণা দিলে ইরান তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করে না। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে মাঝে মাঝে এক বা দুই দিন সময় লেগে যায়। আবার কখনো কখনো কোনো বিস্তারিত তথ্যই প্রকাশ করা হয় না। তবে বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর এবং খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি হামলা। কারণ, এই দ্বীপ থেকেই ইরানের ৯০ শতাংশেরও বেশি তেল রপ্তানি হয় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে এর অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই