২৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নিচ্ছে ডিএসই।
২৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নিচ্ছে ডিএসই।   ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বখ্যাত নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। নাসডাকের প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিএসইর লেনদেন সম্পাদনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিস্থাপনে ২৯৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

রোববার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও অধিকাংশ পরিচালক তুলনামূলক কম খরচের ম্যাচিং ইঞ্জিন—পাকিস্তানের ইনফোটেক কোম্পানির তৈরি প্রযুক্তি—নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। ইনফোটেকের প্রযুক্তি নিলে প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা কম ব্যয় হতো।

ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, তিনজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) বেশিরভাগ পরিচালক ইনফোটেকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা নাসডাকের প্রযুক্তি নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাই তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই শেষ পর্যন্ত নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিএসই বর্তমানে নাসডাকের পুরোনো সংস্করণের ম্যাচিং ইঞ্জিন দিয়ে লেনদেন পরিচালনা করছে, যার বর্ধিত মেয়াদ আগামী বছর শেষ হয়ে যাবে। নতুন ম্যাচিং ইঞ্জিন স্থাপন ও পুরো সিস্টেম মাইগ্রেশন করতে সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগে।

ডিএসই যে নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি সর্বশেষ সংস্করণ। বিশ্বের ৪৫টির বেশি উন্নত স্টক এক্সচেঞ্জ বর্তমানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই ইঞ্জিন মাইক্রোসেকেন্ডে লাখ লাখ অর্ডার প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম এবং সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিবেচিত।

অন্যদিকে পাকিস্তানের ইনফোটেকের তৈরি ম্যাচিং ইঞ্জিন আফ্রিকার ১২টি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি প্রায় ১৬০ কোটি টাকায় নেওয়া সম্ভব ছিল। তবে বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক কোনো বড় স্টক এক্সচেঞ্জে ইনফোটেকের প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য সফলতার নজির নেই।

ডিএসইর এই পরিচালক আরও বলেন, ইনফোটেকের প্রযুক্তি নেওয়া হলে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। এমনকি ডিএসইর সংশ্লিষ্ট কমিটি ও বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞও ইনফোটেকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে শেষ পর্যন্ত নাসডাকের প্রযুক্তি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডিএসইর বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ব্যয়ের কারণে ভবিষ্যতে লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে।

তবে নাসডাকের প্রযুক্তি নেওয়ার পাশাপাশি ডিএসই শিগগিরই একটি ফিনটেক কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করেছে। পুঁজিবাজারে প্রযুক্তিগত পরনির্ভরতা কমাতে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হতে পারে বলে জানান মিনহাজ মান্নান ইমন।