গ্যাসক্ষেত্র, কাতার
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।   ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামে তীব্র প্রভাব পড়েছে। ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের হামলার জেরে এই অস্থিরতা আরও বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানির দাম আরও ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।

তেল বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভান্দা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওমান ও দুবাইয়ের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ১৫০ ডলার অতিক্রম করেছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কিছু তেলের দাম ২০০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম ভবিষ্যতে কতটা বাড়বে, তা মূলত নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি কতদিন বন্ধ থাকে তার ওপর।

ইউরোপে গ্যাসের দামে বড় উল্লম্ফন

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ও কাতারের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে হামলার প্রভাব ইউরোপের বাজারেও পড়েছে। বৃহস্পতিবার ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক ডাচ টিটিএফ প্রাকৃতিক গ্যাসের চুক্তিমূল্য একপর্যায়ে ৭৪ ইউরোতে পৌঁছায়, যদিও পরে কিছুটা কমে আসে।

ইরানের ধারাবাহিক হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি কাতারের রাস লাফান এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত

কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হওয়ায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

এ দেশগুলোর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির এক বড় অংশই আসে কাতার থেকে। কাতারের প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস রাস লাফানে প্রক্রিয়াজাত ও সেখান থেকে রপ্তানি করা হয়।

জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তাদের এলএনজি আমদানির যথাক্রমে ৯৯ শতাংশ ও ৭০ শতাংশ পায় কাতার থেকে।

অন্যদিকে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারত তাদের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি কাতার থেকে সংগ্রহ করে।

রাস লাফান স্থাপনার পরিচালক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি চলতি মাসের শুরুর দিকে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন স্থগিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কোম্পানিটির অনেক বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

সূত্র: সিএনএন, এএফপি, আল জাজিরা