ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের এলভিন কারাগারে িইসরায়েলি হামলার পরের দৃশ্য   ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের আজ ২০তম দিন চলছে। এর মধ্যেই চলতি বছরের শুরুর দিকে হওয়া অস্থিরতায় পুলিশ সদস্যদের হত্যা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে কাজ করার অপরাধে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি। ইরানের বিচার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট ‘মিজান অনলাইন’ জানায়, “জানুয়ারি (ফার্সি ‘দে’ মাস) মাসের অস্থিরতায় হত্যা এবং জায়নবাদী সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে দোষী সাব্যস্ত তিনজনকে আজ সকালে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।” এতে আরও বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্তরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুইজন সদস্যকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।

কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী জড়িত ছিল—জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এমন অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই সব হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই ঘটেছিল ৮ ও ৯ জানুয়ারি।

যুদ্ধ শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (এইচআরএএনএ) জানিয়েছিল, তারা ৬,৮৭২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করেছে এবং আরও ১১,০০০ এর বেশি ঘটনা তদন্ত করছে। জাতিসংঘের এক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার জানিয়েছিলেন, নিহতের সংখ্যা ২০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, রাষ্ট্রের কড়া ইন্টারনেট বিধিনিষেধের কারণে তথ্য খুব ধীরগতিতে বাইরে আসছিল।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরান এক সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে বলে জানান সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। বুধবার ইরানি কর্তৃপক্ষ সারা দেশে আরও কয়েকশ মানুষকে গ্রেপ্তারের কথা ঘোষণা করে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করা তথাকথিত ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ দমনে অভিযান চালানোর কথাও জানায় তারা।

ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৬টিতে ১১১টি ‘রাজতন্ত্রপন্থী সেল’ বা গোপন আস্তানা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে উৎখাত হওয়া মার্কিন-সমর্থিত রাজতন্ত্রের পক্ষ নিয়ে বর্তমান ধর্মতাত্ত্বিক সরকারের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছিল এসব গোষ্ঠী।

ইরানের ওপর ১২ দিনের ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের (পূর্ববর্তী একটি সংঘাত) পর তেহরান কথিত সহযোগীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ২০২৫ সালে ইরান বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল।