যুক্তরাষ্ট্র, তুলসি গ্যাবার্ড
তুলসি গ্যাবার্ড।   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক হুমকি তৈরি করা দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানও অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির বৈঠকে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

তুলসি গ্যাবার্ড জানান, পাকিস্তানের পাশাপাশি ইরান, চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া সক্রিয়ভাবে এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করছে, যা পারমাণবিক ও প্রচলিত ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসলামাবাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং দেশটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে কাজ করছে। এমনকি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির চেষ্টাও থাকতে পারে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী এক দশকে এই হুমকি আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে গ্যাবার্ড বলেন, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বোঝার চেষ্টা করছে, যাতে নিজেদের কর্মসূচি সেই অনুযায়ী সাজাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যায়ন নতুন নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশেষজ্ঞ সুজা নওয়াজ বলেন, পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনও পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তবে পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মূলত ভারত-কে মোকাবিলার জন্য, যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে নয়।

অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সাধারণত পাকিস্তান নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিলেও এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এছাড়া বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী এখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য বড় হুমকি বলে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং তালেবান-এর সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে ইরান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে গ্যাবার্ড বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে কিছুটা চাপে থাকলেও তেহরান এখনো আঞ্চলিকভাবে সক্রিয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা বজায় রেখেছে।

শুনানিতে জন র‍্যাটক্লিফ ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর মাইকেল বেনেট-এর মধ্যে ইরান ইস্যুতে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, ডন