যে কারণে ক্ষেপণাস্ত্রে ভারত-পাকিস্তানসহ ৪ দেশের নাম লিখল ইরান
যে কারণে ক্ষেপণাস্ত্রে ভারত-পাকিস্তানসহ ৪ দেশের নাম লিখল ইরান   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইরান। সাম্প্রতিক এক পদক্ষেপে তেহরান ভারত ও পাকিস্তানসহ চারটি দেশের নাম উল্লেখ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, যা কূটনৈতিক মহলে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) হিন্দুস্তান টাইমস এবং দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময় প্রতীকীভাবে চার দেশের নাম তুলে ধরা হয়েছে। এই চারটি দেশ হলো ভারত, পাকিস্তান, স্পেন ও জার্মানি। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দেশের জনগণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতি সমর্থন ও সংহতি দেখিয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর আওতায় ৮৩তম ধাপে তারা এ হামলা পরিচালনা করেছে। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা। আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় দূরপাল্লার ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি মাল্টি-ওয়ারহেড প্রযুক্তি এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আশদোদ-এর একটি তেলের ডিপো, মোদিইন এলাকার সামরিক স্থাপনা এবং একটি মার্কিন সামরিক তথ্যকেন্দ্র। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার মধ্যে আল-ধাফরা (সংযুক্ত আরব আমিরাত) এবং আল-উদেইরি (কুয়েত) উল্লেখযোগ্য।

এদিকে ইরানের দূতাবাস মুম্বাই তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি বার্তা শেয়ার করে ভারতের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান, স্পেন ও জার্মানির জনগণের প্রতিও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। এই বার্তায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নৈতিক সমর্থন ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ধরনের সংহতি তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রে বিভিন্ন দেশের নাম উল্লেখ করা কেবল সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে ইরান একদিকে যেমন তাদের প্রতিশোধমূলক অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রদর্শনেরও চেষ্টা করছে।

পুরো ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।