আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে বড় আলোচনার একটি বিষয় হয়ে উঠেছে লিওনেল মেসি-র অংশগ্রহণ। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লিওনেল স্কালোনি, যিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্বকাপে মেসির খেলা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্কালোনি জানান, এটি পুরোপুরি মেসির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে তাকে দলে রাখার, কারণ ফুটবলের স্বার্থেই তার মতো একজন খেলোয়াড়ের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শেষ পর্যন্ত তার মানসিক প্রস্তুতি ও শারীরিক সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করবে তিনি খেলবেন কি না।
২০২২ সালে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। সেই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন মেসি। বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যার আন্তর্জাতিক গোল সংখ্যা ১১৫।
স্কালোনি আরও বলেন, মেসিকে বিশ্বকাপে দেখতে চায় শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো ফুটবল বিশ্ব। তবে তার মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। কোচের ভাষায়, কোনো তাড়াহুড়া নেই—মেসি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই হবে তার এবং দলের জন্য সেরা।
যদিও বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবুও চলতি মাসের আন্তর্জাতিক সূচিতে মেসিকে দলে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, নির্ধারিত দুই ম্যাচেই মেসি খেলবেন, তবে শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, তা ম্যাচ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
এর আগে ২৭ মার্চ কাতারে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে ফিনালিসিমা এবং ৩১ মার্চ স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে তা বাতিল করা হয়। পরে নিজেদের মাঠে দুটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে মৌরিতানিয়া এবং ৩১ মার্চ জাম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে, যেখানে ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে।
এই ম্যাচগুলোকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন স্কালোনি। তার মতে, নিজেদের মাঠে খেলার সুযোগ সবসময়ই বিশেষ, আর সেখানে মেসিকে দেখা গেলে তা সমর্থকদের জন্য বাড়তি আনন্দের বিষয় হবে।
এদিকে স্কালোনির ঘোষিত ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী ১৬ জন খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন। পাশাপাশি নতুন মুখ হিসেবেও কয়েকজনকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোচ জানান, খেলোয়াড়দের ফিটনেস, ইনজুরি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনা করেই চূড়ান্ত দল গঠন করা হবে।
বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা রক্ষার মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ‘জে’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। সব মিলিয়ে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি, আর সেই যাত্রায় মেসির থাকা-না থাকা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ফুটবল বিশ্বে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!