অলিম্পিকে ট্রান্সজেন্ডার নারী অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।
অলিম্পিকে ট্রান্সজেন্ডার নারী অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।   ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) নতুন একটি যোগ্যতা নীতিমালা অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটরা অলিম্পিকের নারী বিভাগে আর অংশ নিতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঘোষিত এই আইনটি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক থেকে কার্যকর হবে।

আইওসি এক বিবৃতিতে জানায়, "অলিম্পিক গেমস বা আইওসি-র যেকোনো ইভেন্টে নারী বিভাগের জন্য যোগ্যতা এখন কেবল জৈবিক নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।" নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন অ্যাথলেটের ক্যারিয়ারে একবার বাধ্যতামূলক জিন পরীক্ষা করা হবে, যা তার নারীত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।

বর্তমানে অলিম্পিক পর্যায়ে কতজন ট্রান্সজেন্ডার নারী অংশগ্রহণ করছেন, তা স্পষ্ট নয়। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালীন প্যারিস অলিম্পিকে কোনো ট্রান্সজেন্ডার নারী অ্যাথলেট অংশ নেবেন না, তবে ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে নিউজিল্যান্ডের ভারোত্তোলক লরেল হুবার্ড অংশ নিয়েছিলেন। যদিও তিনি কোনো পদক জিততে পারেননি, তবুও তার অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক ছিল।

আইওসি বলেছে, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে কার্যকর এই নীতিমালা "নারী বিভাগের ন্যায্যতা, নিরাপত্তা এবং সততা রক্ষা করবে"। তবে, এটি পূর্ববর্তী প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না এবং শৌখিন বা গ্রাসরুট পর্যায়ের ক্রীড়ায়ও এটি প্রযোজ্য নয়।

আইওসি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টি কভেন্ট্রি বলেছেন, "অলিম্পিক গেমসে খুব সামান্য ব্যবধানই জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেয়। তাই জৈবিক পুরুষদের নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা করা ন্যায্য হবে না, এটি স্পষ্ট।"

আইওসি তাদের গবেষণায় উল্লেখ করেছে, জন্মগতভাবে পুরুষদের শারীরিক কিছু সুবিধা থাকে, যা শক্তি, ক্ষমতা ও সহনশীলতার ওপর নির্ভরশীল খেলায় প্রভাব ফেলে। এসব সুবিধা টেস্টোস্টেরনের বিভিন্ন পর্যায়ের কারণে তৈরি হয়, যা ট্রান্সজেন্ডার নারীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়।