ব্রাজিল ফুটবল দল
ব্রাজিল ফুটবল দল   ছবি: সংগৃহীত

এগার বছর পর আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপের শহর হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ, যা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়। ফুটবল বিশ্বে দুই পরাশক্তির এই লড়াই ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ।

ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম এই ম্যাচকে শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না, বরং এটিকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির বিষয়, এবং এমন ম্যাচ ঘন ঘন আসে না। তাই এই লড়াই ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।

অন্যদিকে, ব্রাজিল শিবিরেও এই ম্যাচ ঘিরে রয়েছে বাড়তি সতর্কতা ও পরিকল্পনা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে না পারলেও এবার তারা নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে নিতে চাইছে। দলের অন্যতম ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য সুন্দর ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা। তিনি মনে করেন, বড় ম্যাচে একটি জয় বা একটি গোলই দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে ম্যাচের আগের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি ঘুরে ফিরে আসছে নেইমার ইস্যু। প্রীতি ম্যাচে তার অনুপস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ দলে তার অবস্থান নিয়ে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তিনি সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন দলের স্বার্থে। তার মতে, ফুটবল কোনো বিজ্ঞান নয়, তাই মতামত ও বিতর্ক থাকাটাই স্বাভাবিক।

দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও বেশ সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখন পর্যন্ত ১২টি ম্যাচে ফ্রান্স সামান্য এগিয়ে রয়েছে, তারা জিতেছে ৫টি ম্যাচে, আর ব্রাজিল জিতেছে ৪টি। সবশেষ ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল, যা এই ম্যাচকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

ম্যাচটি ঘিরে উপমহাদেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে দর্শকরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চ্যানেল ইএসপিএন, বিইন স্পোর্টস এবং ফক্স স্পোর্টসের মাধ্যমে সরাসরি ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও থাকবে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা। সরাসরি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সব মিলিয়ে, বোস্টনের এই লড়াই শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং দুই ফুটবল পরাশক্তির মর্যাদা ও প্রস্তুতির বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক নজরে দু’দলের স্কোয়াড

ব্রাজিল

গোলরক্ষক: এডারসন, বেন্তো, হুগো সুজা। ডিফেন্ডার: মারকুইনহোস, ব্রেমার, দানিলো, ডগলাস সান্তোস, রজার ইবানেজ, কাইকি, লিও পেরেইরা, ওয়েসলি। মিডফিল্ডার: ক্যাসেমিরো, ফ্যাবিনহো, আন্দ্রে সান্তোস, দানিলো ওলিভেইরা, গ্যাব্রিয়েল সারা। ফরোয়ার্ড: ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি, রাফিনহা, এন্দ্রিকে, ইগোর থিয়াগো, জোয়াও পেদ্রো, লুইজ হেনরিক, মাথিউস কুনহা ও রায়ান।

ফ্রান্স

গোলরক্ষক: মাইক ম্যাইগনান, ব্রাইস সাম্বা, লুকাস শেভালিয়ার। ডিফেন্ডার: উপামেকানো, ইব্রাহিমা কোনাতে, থিও হার্নান্দেজ, লুকাস ডিগনে, লুকাস হার্নান্দেজ, মালো গুস্তন, ম্যাক্সেন্স ল্যাকরইক্স, পিয়েরে কালুলু। মিডফিল্ডার: এদুয়ার্দ কামাভিঙ্গা, অরলিয়ে চুয়ামেনি, এনগোলো কান্তে, আদ্রিয়ান র‌্যাবিও, ওয়ারেন জাইরে-এমেরি। ফরোয়ার্ড: কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, ডিজাইরে দুরে, হুগো একিতেকে, ম্যাগনেস একিলুইসে, মার্কাস থুরাম, মাইকেল ওলিস, কোলো মুয়ানি ও রায়ান চের্কি।