ছবিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেন।
ছবিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেন।   ছবি: সংগৃহীত

নকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে ১১ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা।

হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল এবং আলমগীরকে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হেফাজতে ১১ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন দিল্লির স্থানীয় একটি আদালত। 

গত সোমবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে যায় ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা-এনআইএ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তাদের দিল্লিতে সংস্থাটির একটি বিশেষ আদালতে তোলা হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টের অতিরিক্ত সেশন জজ প্রশান্ত শর্মা তাদের ১১ দিনের রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দেন।

এনআইএ সূত্রের খবর, আদালতের সিনিয়র পাবলিক প্রসিকিউটর রাহুল ত্যাগী ফয়সাল ও আলমগীরের বিরুদ্ধে সব নথি দাখিল করেন। তার বক্তব্য ছিল, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন। ফলে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। ফলে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আনা উচিত। 

গত ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে  মামলা দায়ের করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। 

পরবর্তীতে তাদের বিধান নগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে প্রথমে ১৪ দিনের এসটিএফ রিমান্ডের নির্দেশ দেন আদালত। সেই রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ২২ মার্চ বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের উভয়কেই ১২ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার (কারা হাজতবাস) নির্দেশ দেন। 

এরপর এই মামলায় যুক্ত হয় এনআইএ। দুই অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে গত সোমবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে এনআইএর পক্ষে আবেদন করা হয়েছিল। মূলত নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ বা এর পিছনে কোনো অভিসন্ধি আছে কি না, তা জানতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। 

গত ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর ঢাকার পল্টন এলাকায় হেলমেট পরে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্জের মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

হাদি হত্যা মামলার তদন্তের মধ্যে একপর্যায়ে জানা যায়, সন্দেহভাজন প্রধান আসামিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গেছেন। পরে কলকাতা থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর আসে।