বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর বোস্টনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্স দারুণ এক লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়ে ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিলকে। সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার পরও কার্যকর ফিনিশিং আর সংগঠিত রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় ফরাসিরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাতের ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে খেলতে থাকে ব্রাজিল। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনহা, তবে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তিন মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড হুগো একিটিকে হেড নিলেও সেটিও কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছায়নি। শুরুতে চাপের মুখে থাকলেও ধীরে ধীরে বলের দখল ও আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেয় ফ্রান্স, যদিও দুই দলই পরিষ্কার সুযোগ তৈরিতে কিছুটা ভুগছিল।
ম্যাচের ২৭তম মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি ডি-বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার এক বাঁকানো শট নিলেও বলটি অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। এই মিসের খেসারত দিতে হয় ব্রাজিলকে। ৩২তম মিনিটে মাঝমাঠে বল কেড়ে নেন অরিয়েল চুয়েমেনি, সেখান থেকে বল যায় উসমান দেম্বেলের কাছে। তার নিখুঁত পাস ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে চিপ শটে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি এমবাপ্পের ৫৬তম গোল, যা তাকে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা অলিভিয়র জিরুডের রেকর্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ব্রাজিল। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা তাদের হতাশ করে। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ওয়েজলির ওপর কঠিন ফাউলের কারণে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিএআর দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় ডায়ট উপামেকানোকে। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। বরং ৬৫তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের চমৎকার থ্রু পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক গোলটি করেন একিটিকে।
ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয় ব্রাজিল। ফ্রি-কিক থেকে তৈরি আক্রমণে ক্যাসিমিরো বল কাটব্যাক করলে শট নেন লুইস এইহিক, আর মাঝপথে দিক পরিবর্তন করে বল জালে জড়িয়ে দেন ব্রেমার। ব্রাজিলের জার্সিতে এটি ছিল তার প্রথম গোল।
শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণে ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে চাপে রাখলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। ইনজুরি টাইমে ব্রেমারের শটে সামান্য স্পর্শ করতে পারলে হয়তো গোল পেতে পারতেন ভিনিসিয়ুস বা তার সতীর্থরা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে ১০ জন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।
এই জয়ের পর আগামী রোববার কলম্বিয়ার বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ফ্রান্স, অন্যদিকে ব্রাজিল মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!