হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজ চলাচলে অনুমতি
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজ চলাচলে অনুমতি   ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান। তবে এই পথে প্রবেশের আগে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌ-কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। যদিও তার মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি ইরান। একই সময়ে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী ২৯ মার্চের মধ্যে ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরদিন থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। শুরুতে বিষয়টি সরাসরি ঘোষণা না করলেও পরবর্তীতে তেহরান জানায়, তাদের শত্রু বিবেচিত দেশগুলোর কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেয়া হবে না।

এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুট প্রায় অচল হয়ে পড়ে এবং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করে। বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দেয়, ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন পড়ে এবং কোথাও কোথাও তেলের দামও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির খবর পেয়েছে বাংলাদেশ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। একই সুবিধা পাচ্ছে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানও। তিনি বলেন, কয়েকটি দেশ তাদের জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যাদের অনেকেই তেহরানের মিত্র। বন্ধুসুলভ এসব দেশের জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়েও চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতের জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং বাংলাদেশের জাহাজও সেখানে ছিল বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তবে এই রুট ব্যবহার করতে হলে কিছু শর্ত মানতে হবে। হরমুজে প্রবেশের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে টোল পরিশোধের আওতায় আনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে তেহরান।

অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের নৌ-কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ দেয়নি তেহরান।

সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। তবে এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, ইরান বর্তমানে আলোচনায় আগ্রহী নয় এবং প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। যদিও জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি জানিয়েছেন, ২৯ মার্চের মধ্যে ইসলামাবাদে সংলাপ শুরু হতে পারে।

এদিকে আলোচনা আহ্বান করা হলেও তেহরানে হামলার তীব্রতা কমায়নি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। রাজধানীসহ বিরজান্দ ও দক্ষিণ খোরাশানের বেসামরিক এলাকাতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। পাল্টা জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। তেল আবিবসহ শেরোন অঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থাপনা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, এতে হতাহতের আশঙ্কাও রয়েছে।