সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বাড়ছে
সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বাড়ছে   ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া ইরান এখন বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে, আর সেই প্রেক্ষাপটে ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী সংস্থা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্যও এই ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার বাড়ছে। প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করা কঠিন হওয়ায় ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন অনেক ক্ষেত্রেই বিকল্প আর্থিক পথ হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক লেনদেন বা সম্পদ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এটি দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে কম নজরদারির সুযোগ তৈরি করছে।

ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান চায়নালিসিসের সাম্প্রতিক তথ্য এই প্রবণতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চের মধ্যে ইরানের বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি স্থানান্তর করা হয়েছে। এই সময়কালটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কেন্দ্র করে ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

চায়নালিসিস আরও জানিয়েছে, এই লেনদেনে ব্যবহৃত কিছু ডিজিটাল ওয়ালেট সরাসরি আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ওয়ালেটগুলোতে মোট ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি জমা হয়েছে, যা ইরানের সামগ্রিক ক্রিপ্টো লেনদেনের অর্ধেকেরও বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবণতা শুধু অব্যাহতই নয়, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

এদিকে দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যেও ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, তেলের দামের অস্থিরতা এবং স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে অনেকেই নিজেদের সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখতে বিকল্প পথ খুঁজছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বিটকয়েন বা অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রা তাদের কাছে এক ধরনের আর্থিক নিরাপত্তার মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির এই দ্রুত বিস্তার যেমন কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে, তেমনি এটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকারিতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।