ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু   ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের বিরোধি দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ‘রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ’ হয়েছেন। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “আমাদের সমগ্র ইতিহাসে এমন রাজনৈতিক বিপর্যয় আর ঘটেনি। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, তখন ইসরায়েল আলোচনার টেবিলেই ছিল না।”

লাপিদ বলেন, “সামরিক বাহিনী তাদের যা করতে বলা হয়েছিল, তার সবকিছুই পালন করেছে, জনগণ দেখিয়েছে অসাধারণ সহনশীলতা, কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ, কৌশলগতভাবে ব্যর্থ, এবং তিনি নিজে যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলেন, তার একটিও পূরণ করতে পারেননি।” তিনি আরও যোগ করেন, “অহংকার, অবহেলা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে নেতানিয়াহু যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতি করেছেন, তা মেরামত করতে আমাদের বছরের পর বছর সময় লাগবে।”

ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির কারণে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এমন এক অবস্থানে পড়েছেন, যেখানে দেশের ভোটারদের ও জনগণকে দেখানোর জন্য তাকে অন্তত একটি যুদ্ধক্ষেত্র চালু রাখতে হচ্ছে, যাতে তিনি বলতে পারেন যে, যুদ্ধ কোনো না কোনো ভাবে এখনও চলছে। এ কারণেই আমরা দক্ষিণ লেবাননে আরও সৈন্য পাঠানোর প্রচেষ্টা দেখতে পাচ্ছি।

ইসরায়েল ঠিক এই মুহূর্তটিরই ভয় পাচ্ছিল—সংঘাতের অবসান, একটি সম্ভাব্য চুক্তি বা উত্তেজনা হ্রাস—কারণ যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহু তার জনগণকে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন: চূড়ান্ত বিজয়, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং ইরানের হুমকি নির্মূল। এর কোনোটিই অর্জিত হয়নি।

এ কারণেই মারিভ সংবাদপত্রে একজন ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষকের মন্তব্য আমরা পড়ি, যেখানে তিনি বলেছেন, ‘সিংহের গর্জন’ (লায়ন্স রোর)—যে নামটি ইসরায়েলিরা ইরানে তাদের অভিযানকে দিয়েছিল—তা এখন ‘বিড়ালের আর্তনাদে’ পরিণত হয়েছে, কারণ তারা মনে করে এই যুদ্ধে ইরানেরই আধিপত্য ছিল। এই সামরিক বিশ্লেষকের মতে, হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ইরান তার উদ্দেশ্য হাসিল করেছে।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই