নিজেদের বিজয়ী দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিবৃতি
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনি।   ফাইল ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরপরই উভয় পক্ষ নিজেদের ‘বিজয়ী’ হিসেবে দাবি করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘একচ্ছত্র ও পূর্ণাঙ্গ জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইরানও এই যুদ্ধবিরতিকে তাদের বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে চালানো ‘অবৈধ ও অপরাধমূলক যুদ্ধ’-এ শত্রুপক্ষ পরাজিত হয়েছে এবং ইরান একটি ‘বিশাল বিজয়’ অর্জন করেছে।

দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

লেবানন প্রসঙ্গে ভিন্ন অবস্থান

যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক অবস্থান জানালেও লেবানন প্রসঙ্গে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইসরায়েলও এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। লেবাননের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েলের অভিযানে ইতোমধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং সেখানে অভিযান অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

চীনের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

এএফপির সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চীনের চাপেই ইরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতেও একটি সমাধান আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় অর্জন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক শক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে থেকে এই সমঝোতা অর্জন করতে পেরেছে।

সূত্র: এএফপি