যশোরে জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, শিক্ষা, প্রতিযোগিতা, হিফজ প্রতিযোগিতা, যশোর, উপজেলা পর্যায়ের হিফজ প্রতিযোগিতা,
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হচ্ছে।   ছবি: আরটিএনএন

যশোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উপজেলা পর্যায়ের বাছাই পর্ব। বুধবার (৮ এপ্রিল) যশোর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সদর উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

পবিত্র কোরআনের হিফজ ও তিলাওয়াতে দক্ষতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত অংশ থেকে সাবলীল, শুদ্ধ উচ্চারণ ও তারতিলের সাথে কোরআন তিলাওয়াত করে তাদের মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিযোগিতার পরিবেশ ছিল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম। তিনি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং প্রতিযোগীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের হাফেজরা সমাজের আলোকবর্তিকা। তাদের মাধ্যমে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতা শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মকে কোরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার একটি মহৎ উদ্যোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোরআন শিক্ষার প্রসার এবং হাফেজ তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

বাছাই পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত করে হিফজ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। বিচারকমণ্ডলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অভিজ্ঞ ক্বারী ও আলেমরা, যারা প্রতিযোগীদের তিলাওয়াত, শুদ্ধতা, তাজবীদ ও হিফজের মান যাচাই করেন।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন গ্রুপে সেরা প্রতিযোগীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীরা পরবর্তী জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এ সময় দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়।

এই আয়োজনকে ঘিরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকলে কোরআনভিত্তিক সমাজ গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।