শীতকাল, গরম পানি, চুল, প্রাকৃতিক, আর্দ্রতা,
গরম পানি চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়   ফাইল ছবি

শীতে অনেকেই গরম পানি দিয়ে গোসল করেন। আর ভালো মন্দ বিবেচনা না করে গরম পানি দিয়েই চুল ধুয়ে নেন। কিন্তু চুলের যত্নে পানির তাপমাত্রা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গরম পানির যেমন কিছু জাদুকরি উপকারিতা আছে, তেমনি রয়েছে ভয়ংকর কিছু ক্ষতিও। 

কারণ অনেকেরই ধারণা আছে, গরম পানি ব্যবহারে চুল উঠে যাবে। তাহলে কি সত্যিই গরম পানি দিয়ে গোসলে করলে চুলের ক্ষতি হয়? কী বলছে বিজ্ঞান?

আসলে চুলে গরম পানি ব্যবহার করা স্বাস্থ্যসম্মত না .....তবে.. কখন গরম পানি দেবেন, তা জানতে হবে। ঠিক সময় চুলে গরম পানি ব্যবহারে অনেক উপকার। চুলে যেদিন শ্যাম্পু করেন, পারলে সেদিনই চুলে গরম পানি দিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম পানি চুলের গোড়ায় একটি বিশেষ অনুভূতি বা সেনসেশন তৈরি করে। এটি চুলের কিউটিকলগুলো খুলে দেয়। এই কিউটিকলেই ময়লা জমে থাকে। যা চুলকে দুর্বল করে দেয়। 

শীতকাল বলে নয়, গরম পানি সব ঋতুতেই এই কাজ করে। তাই চুলের যত্ন নিতে দু’রকম পানিই সমান কার্যকরী। তবে শুধুই গরম পানি দিয়ে গোসল করলে চলবে না। চুল ধোওয়ার সঠিক নিয়মটিও মানতে হবে। তবেই চুল ওঠার বদলে আরও পরিষ্কার ও মজবুত হবে। এতে চুল লম্বাও হবে দ্রুত।

গরম পানির ভালো দিক

গরম পানি ঠিক যেমন তেল-চর্বিযুক্ত থালাবাসন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, তেমনি স্ক্যাল্প পরিষ্কার করতেও বেশ কার্যকর। গরম পানি স্ক্যাল্পের সিবাম বা প্রাকৃতিক তেল গলিয়ে নরম করে, এতে চুলের গোড়ার ফলিকল শিথিল হয়ে যায়। আর জমে থাকা ময়লা, ধুলাবালি ও অতিরিক্ত তেল সহজে উঠে আসে। গরম ভাপে চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকল খুলে যায়, এর ফলে তেল, হেয়ার মাস্ক চুলের গভীরে ভালোভাবে পৌঁছাতে পারে।

গরম পানির খারাপ দিক

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম পানি চুলের থেকে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা শুষে নেয়। এমনকি স্ক্যাল্পকেও রুক্ষ করে তোলে।

গরম পানির খারাপ দিক হলো স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল সম্পূর্ণ তুলে নেয়। এতে চুল হয়ে যায় শুষ্ক, রুক্ষ ও খড়ের মতো। এছাড়া অতিরিক্ত তাপে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল পড়া বাড়ে আর চুল শুকানোর পর দেখায় উষ্কখুষ্ক ও প্রাণহীন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুলের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য তার আর্দ্রতার মাত্রাও ঠিক রাখা প্রয়োজন। কিন্তু যারা নিয়মিত গরম পানিতে গোসল করেন, তাদের চুলের ওপরে ক্ষতিকারক প্রভাব পড়তে পারে। কেননা অতিরিক্ত গরম পানি চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়। ফলে চুল হয়ে উঠে রুক্ষ। এতে চুলের প্রাকৃতিক যে চকচকে ভাব তা নষ্ট হয়, সেই সঙ্গে চুল পড়াও বেড়ে যায়। 

ফলে স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত সেবাম উৎপাদন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তখন চুলের অবস্থাও বেহাল হতে শুরু করে। 

প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে গরম পানি দিয়ে মাথা ধোয়ার ব্যাপারে রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে—শরীর গরম পানিতে ধোয়া গেলেও, মাথার জন্য সাধারণ তাপমাত্রার পানিই সবচেয়ে নিরাপদ। 

তবে কি শীতেও ঠাণ্ডা পানিতে গোসল সারবেন? 

তাহলে এ শীতে কেমন পানিতে গোসল সারবেন বলে ভাবছেন? জেনে রাখুন, নিয়মিত হিমশীতল পানিতেও যে গোসল সারতে হবে এমনটাও কিন্তু নয়। বরং শীতকালে ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল সারুন। ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে এই পরিমাণ গরম পানি মেশান যা পানির অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ভাব কাটাতে সাহায্য করে।

কিন্তু পানিকে উষ্ণ না করে ফেলে সেদিকেও খেয়াল রাখুন। অর্থাৎ ঠাণ্ডা পানির মধ্যে পরিমাণমতো গরম পানি মিশিয়ে হিম ভাব কাটিয়ে নিতে হবে। এমন তাপমাত্রার পানি চুলেও দেয়া যাবে। এতে চুলের সে রকম ক্ষতি হবে না। 

সূত্র: ইন্ডিয়ান টাইমস, হেলথ শর্টস